রবিবার সকালে মাত্র ঘণ্টাখানেকের ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির দাপটেই জলমগ্ন হয়ে পড়ল কলকাতার বেশ কিছু নিচু এলাকা। বৃষ্টির পাশাপাশি শহরের দু-এক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে ভাল রকম বিপত্তি ঘটেছে চাঁদনি চক এলাকায়। সেখানে রাস্তার ওপর একটি বিশালাকার গাছ উপড়ে পড়ায় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউগামী সমস্ত রকম যান চলাচল সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার বুক কাঁপিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা; ময়নাগুড়িতে ট্রেলারে ধাক্কা যাত্রীবোঝাই বাসের
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভেঙে পড়া গাছটি একটি সচল বিদ্যুতের তারের ওপর গিয়ে পড়েছে, যার ফলে বড় বিপদ এড়াতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পৌঁছে গিয়েছেন কলকাতা পুরসভা এবং সিইএসই (CESC)-র কর্মীরা। গাছটি কেটে রাস্তা সচল করার পাশাপাশি বিদ্যুতের লাইনের সুরক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছুটির দিন অর্থাৎ রবিবার হওয়ায় সকালের দিকে রাস্তায় গাড়ির চাপ অন্য দিনের তুলনায় অনেকটাই কম ছিল। সে কারণে গাছ ভেঙে পড়ার পরেও সংলগ্ন এলাকায় তেমন কোনও বড় ট্রাফিক জ্যাম বা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
এদিন সকাল গড়াতেই আকাশ কালো করে বৃষ্টি নেমেছে। রবিবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির দেখা মিলেছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়া, হুগলি এবং নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। রবিবার বেলা বাড়তেই কলকাতা ও সংলগ্ন জেলাগুলিতে বৃষ্টি শুরু হয়। একই ধরনের আবহাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া-সহ দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই। অধিকাংশ জায়গায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়ার সঙ্গে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে এখনও বজায় রয়েছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। রবিবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় জারি রয়েছে লাল সতর্কতা। টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহবিদদের মতে, এই দুই জেলার কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ “এ শুধু গানের দিন…”; বিশ্ব সঙ্গীত দিবসে সকলকে বঙ্গবার্তার শুভেচ্ছা
এ ছাড়াও দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহার জেলাতেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে হলুদ সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় এই সতর্কতা আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে।


