কলকাতা:
জেলা ও মণ্ডল স্তরে উঠেছে তোলাবাজি, ‘কাটমানি’ ও দলীয় অসংগতির একের পর এক অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ শাখা। দলীয় সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরের ২৫০ জনেরও বেশি নেতা-কর্মীকে শোকজ নোটিস পাঠানো হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় এবং সরাসরি অপরাধমূলক কাজে যুক্ত থাকার প্রমাণের ভিত্তিতে ২২ জন মণ্ডল সভাপতি ও মাঝারি স্তরের প্রতিনিধিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (Suspended) করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ তিন মাসেই বদলে গেল জীবনযাপন? তোলাবাজি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ
পদক্ষেপ ও শোকজের প্রক্রিয়া
-
অভিযোগের ধরণ: শোকজ নোটিসের অধিকাংশ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ’ বা ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’ উল্লেখ করা হলেও, বেশ কিছু স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে তোলাবাজি, নির্মাণ ব্যবসায় জোর করে ‘সিন্ডিকেট’ চালানো এবং অন্য দলের কর্মী-সমর্থকদের সহায়তার সুস্পষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
-
শোকজের জবাব পর্যালোচনা: দলের রাজ্য শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি সূত্রে খবর, ২৫০-র বেশি শোকজ হওয়া সদস্যের মধ্যে প্রায় ৮০ জন নেতা-কর্মী লিখিত সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত স্থগিত রেখে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদের নিয়ে তদন্ত চলছে।
-
সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা: গোবরডাঙা পুর মণ্ডলের মতো কয়েকটি এলাকায় সাময়িক বরখাস্ত বা পদ থেকে সরানোর কিছু ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত পুনঃপর্যালোচনার ঘটনা নিয়ে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘তোলাবাজির যুগ শেষ’, শিল্পপতিদের আশ্বাস শুভেন্দুর
দলীয় নেতৃত্ব ও শমীক ভট্টাচার্যের বার্তা
অধিবেশন চলাকালীন বিষয়টিতে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দলীয় কর্মীদের জিরো-টলারেন্স বার্তা দিয়ে জানান:
“দলের ঊর্ধ্বে কেউ নন। অন্যায়ের সাথে আপস করা হবে না। অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট ও সাধারণ মানুষের অভিযোগ খতিয়ে দেখে শৃঙ্খলা কমিটি পদক্ষেপ করছে। যাঁরা সংশোধন করবেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দলীয় সূত্রের খবর, সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সুনীল বনশলের রাজ্য সফরের ঠিক আগেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপের মাধ্যমে দলীয় পরিকাঠামোয় স্বচ্ছতা ফেরানোর বার্তা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে গেরুয়া শিবির।


