লোহার বিমে লেগে আছে রক্তমাংস, কারও মাথা থেঁতলে গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে বের হয়েছে কারও হাত, ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে শোনা যাচ্ছে বাঁচানোর আর্তনাদ- তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ যেখানে ভেঙে পড়েছে, সেখানে এরকমই সব ভয়ংকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। বুধবার দুপুরে ঢালাইয়ের সময় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে ছাদ। তার জেরে আটকে পড়েন একাধিক শ্রমিক। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আপাতত ১৩ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও ঠিক কতজন আটকে রয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কতজন হতাহত হয়েছেন, সে বিষয়েও আপাতত কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর, কমপক্ষে পাঁচজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আরও পড়ুনঃ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে বিপর্যয়, বহু শ্রমিক আটকে থাকার আশঙ্কা; উদ্ধারকাজে সেনা
সূত্রের খবর, বছরদেড়েক ধরে ব্রেসব্রিজ স্টেশন লাগোয়া ট্রান্সপোর্ট ডিপো সংলগ্ন ওই গুদামের নির্মাণ কাজ চলছিল। লিজে জমি নিয়ে সেই কাজ চালাচ্ছিল একটি চা সংস্থা। লোহার বিমের উপরে টিনের উপরে ঢালাই করা হচ্ছিল। যে লোহার কাঠামোর উপরে কংক্রিটের স্তর ছিল, তা আজ সকাল থেকেই নড়ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কাঠামো পরীক্ষা করতে যান কয়েকজন শ্রমিক। সেইসময় হুড়মুড়িয়ে ছাদ ভেঙে পড়ে। চাপা পড়ে যান শ্রমিকরা।
সেই বিপর্যয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে আসে দমকল, কলকাতা পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরবর্তীতে উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে ভারতীয় সেনা এবং জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও (এনডিআরএফ)। গ্যাসকাটারের সাহায্যে লোহার বিম কেটে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজের চেষ্টা করা হচ্ছে। ড্রিলিং করে তৈরি করা হয়েছে ভার্টিকাল রাস্তা। ক্রেনের সাহায্যে শেডের ভাঙা অংশ সরিয়ে দ্রুত আহতদের উদ্ধার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর এক সদস্য বলেছেন যে ‘ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে যে আর্তনাদ ও সাহায্যের জন্য আর্তি করা হচ্ছে, তা অনুসরণ করছি (এবং তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করছি)। যাঁরা ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়েছেন, তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব উদ্ধার করা যায়, সেই চেষ্টা করছি আমরা।’
তবে কীভাবে সেই বিপর্যয় ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, নীচের তলায় নির্মাণকাজ চলছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় তলার কাজ আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। লোহার বিমের উপরে যে ঢালাই করা হয়েছিল, তা ভার বহন করতে পারেনি বলে মনে হচ্ছে। তার জেরেই পুরো কাঠামো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন ওই প্রত্যক্ষদর্শী।


