ভোট শেষ হলেই যেন একটা অদৃশ্য দুশ্চিন্তা নেমে আসে বাংলার অনেক মানুষের মনে।
কেউ মুখে বলে না ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা প্রশ্ন ঘোরে—সবকিছু শান্ত থাকবে তো?
এই বাস্তবতাটাকেই মাথায় রেখে এবার একটু আলাদা পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন।
শুধু ভোট নেওয়া নয়, ভোটের পরের সময়টাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ আগামীকাল ‘পরিবর্তন’-‘প্রত্যাবর্তন’-এর দিন রাজ্যজুড়ে বড় দুর্যোগের পূর্বাভাস
শোনা যাচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সংবিধানের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বাংলায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মানে, গণনা শেষ হলেই সব গুটিয়ে নেওয়া—এবার আর সেই পুরনো নিয়ম নেই।
প্রায় ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকছে।
সংখ্যাটা শুনতে বড় মনে হলেও, এর পেছনে একটা স্পষ্ট বার্তা আছে—আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
এর মধ্যে বেশিরভাগ বাহিনী রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন থাকবে, যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় থাকে।
আর একটা অংশ থাকবে ইভিএম আর স্ট্রং রুমের পাহারায়—যেখানে ভোটের ফলের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে থাকে।
৪ মে গণনার দিন পার হয়ে গেলেও এই বাহিনী তৎক্ষণাৎ ফিরবে না।
পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা এখানেই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
অনেকেই এখনও ২০২১ সালের পরের সময়টার কথা ভুলতে পারেননি।
কিছু অশান্তির ছবি, কিছু ভয়ের গল্প—এসবই মানুষের মনে দাগ কেটে আছে।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার একটু বাড়তি সতর্কতা।
যাতে আগের ভুল আর না হয়, আর কাউকে অযথা আতঙ্কে দিন কাটাতে না হয়।
নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—কেউ যদি ভয় দেখানোর চেষ্টা করে, বা অশান্তি ছড়াতে চায়, তা একদমই সহ্য করা হবে না।
আগেভাগেই নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে সমস্যা বড় হওয়ার আগেই থামানো যায়।
আরও পড়ুনঃ চামেলির জায়গায় দায়িত্বে বলাই; ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের ওসি বদল কালীঘাটে
সব মিলিয়ে, একটা চেষ্টা চলছে—ভোট শুধু গণতন্ত্রের উৎসব হয়ে থাকুক, তার পরে যেন তা আর কারও জন্য দুঃস্বপ্ন না হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত মানুষের একটাই আশা—ভোট হোক শান্তিতে, আর ফলাফল যাই হোক, জীবনটা যেন স্বাভাবিক থাকে।


