spot_img
Saturday, 14 March, 2026
14 March
spot_img
Homeগল্প"বিসর্জন " - সৌমেন মুখোপাধ্যায়

“বিসর্জন ” – সৌমেন মুখোপাধ্যায়

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

“বিসর্জন “
সৌমেন মুখোপাধ্যায়

কিছুক্ষণ পর প্রতাপ চক্রবর্তী কৃষ্ণাদেবীর বিছানার পাশে এসে দাঁড়ায়। বলে, “এখন কেমন লাগছে?”
স্বামীর কথাগুলো তার কানে ঠিক মতন পৌঁছায়নি তাই সে একবার স্বামীর দিকে তাকিয়ে জানালার দিকে তাকিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছে। বিছানায় কৃষ্ণাদেবীর পাশে বসে কৃষ্ণাদেবীর মাথায় হাত বুলাতে থাকে। এমনসময় হুকো মহন্ত হাঁপাতে হাঁপাতে এসে প্রতাপ চক্রবর্তীর সামনে এসে একটা সেলাম ঠুকে বলে, “হুঁজুর, সব সর্বনাশ হয়ে গেছে।”
“কি হয়েছে ?” প্রতাপ চক্রবর্তী জিজ্ঞেস করে।
“আমাদের জন্য আপনি যে দশ বিঘা জমি দান করেছেন সেই দশ বিঘা জমি ঐপাড়ার ফটিক বাড়ুজ্জ্যে তার লেঠেল নিয়ে দখল করে নিয়েছে। আপনি তাড়াতাড়ি চলুন হুঁজুর নাহলে আমরা আজ বাঁচবো না।”
“কিন্তু মহন্ত আমার যে বড় বিপদ , গিন্নীকে এই অবস্থায় একা ছেড়ে কোথাও যেতে পারব না, তার থেকে বরং তুমি একটা যা পারো কিছু একটা করো।”
“না হুঁজুর তা কি করে সম্ভব। আপনি হলেন এই গ্রামের হর্তাকর্তা বিধাতা, আপনি না গেলে কি করে চলবে। তার থেকে আপনি একটু দেরী করেই যাবেন।” বলে হুকো মহন্ত ভিজে বেড়ালের মতো তাকিয়ে থাকে।
“না মহন্ত, আমাকে একা থাকতে দাও। গিন্নীকে একা রেখে একটুখানির জন্যও যেতে পারবো না।” এই বলে আগের মতো গিন্নীর মাথায় হাত বুলাতে থাকে।
নিরাশ হয়ে ফিরে যাবে দেখে হুকো মহন্ত আবার বলে, “হুঁজুর, আপনার কাছে আমরা যখনি এসেছি তখনই আপনি আমাদের নিরাশ করে ফেরত পাঠাননি। আর আজ আমাদের জীবনে এতবড় বিপদের সময় আপনি আমাকে নিরাশ করে ফেরত পাঠাচ্ছেন। ” বলে দু’হাত দিয়ে নিজের মুখটা ধরে কাঁদতে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে হুকো মহন্ত ফিরে যাচ্ছে দেখে প্রতাপ চক্রবর্তীর মনে কি একটা অনুভব হতেই হুকো মহন্তকে পিছু থেকে ডাক দেয়, “চলো মহন্ত, তবে বেশীক্ষণ থাকতে পারবো না। গিন্নীর অবস্থার কথাটা তো ভাবতে হবে।”
“আপনি যাবেন হুঁজুর ?”
“হাঁ, না গিয়ে আর কোন কাজ হবে না। তাই বলছি তাড়াতাড়ি চলো।” এই বলে দুজনে ঘরের সীমানা পার করে রাস্তায় নামে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন