অবশেষে ভাঙা পড়ল লেকটাউনের বিপজ্জনক মেসি মূর্তি। দীর্ঘদিন ধরে এই মুড়ি হাওয়ায় দুলছিল বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। বড়সড় বিপদ ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেছিলেন তারা। আজ সেই মূর্তি ভাঙা পড়ছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হাইড্রোলিক ক্রেন ব্যবহার করে আলগোছে তুলে নেওয়া হচ্ছে এই মূর্তি। কলকাতায় মেসির আগমন উপলক্ষে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এই মূর্তি উদ্বোধন করেছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় ফিরছে টাটা গোষ্ঠী! নতুন আশায় বুক বাঁধছে রাজ্য
গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফর উপলক্ষে লেকটাউনে প্রায় ৭০ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি উন্মোচন করা হয়েছিল। উদ্বোধন করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। মূর্তিটি স্থাপনের পর থেকেই এটি এলাকার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল। বহু ফুটবলপ্রেমী ও পর্যটক সেখানে ভিড় জমাতেন ছবি তুলতে এবং প্রিয় ফুটবলারের স্মৃতিকে কাছ থেকে দেখতে।
তবে কয়েক মাসের মধ্যেই এই মূর্তিকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, মূর্তিটি স্থাপনের পর থেকেই এর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার সময় দেখা যায়, বিশাল কাঠামোটি দুলতে শুরু করেছে। সেই দৃশ্য দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, কোনও দুর্যোগের সময় মূর্তিটি ভেঙে পড়লে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে। প্রথমে মূর্তিটিকে শক্ত দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয় যাতে তা আরও বেশি দুলতে না পারে। পাশাপাশি পূর্ত দপ্তর (PWD)-এর ইঞ্জিনিয়ার এবং বিশেষজ্ঞদের দিয়ে পুরো কাঠামোটি পরীক্ষা করানো হয়। পরে আইআইটি খড়্গপুরের বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, মূর্তির মূল কাঠামোতে বড় কোনও সমস্যা না থাকলেও যে বেদি বা ফাউন্ডেশনের উপর এটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটি প্রয়োজনীয় মান বজায় রেখে তৈরি হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বিপদের সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছিল।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলে বিস্ফোরণ, ঋতব্রত, সন্দীপনকে বহিষ্কার; TMC MLA সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮
বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই মূর্তিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, মূর্তির শিল্পমূল্য ও কাঠামো অক্ষত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই পুরো মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে না। বরং হাইড্রোলিক ক্রেনের সাহায্যে সেটিকে সাবধানে নামিয়ে অন্যত্র সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে, দুর্বল ও বিতর্কিত কংক্রিটের বেদিটি ভেঙে ফেলা হবে।
রবিবার সকাল থেকেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অপসারণের কাজ চলাকালীন সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে মূর্তিটি নামানোর কাজ চলছে যাতে কোনও ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জনপ্রিয় ফুটবলারের মূর্তি থাকুক, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা উচিত নয়। বিশেষ করে বর্ষা ও ঝড়ের মরশুম সামনে রেখে সময়মতো এই পদক্ষেপ নেওয়ায় সম্ভাব্য বিপদ এড়ানো সম্ভব হবে।



