কলকাতা:
বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটে অটো চালানোর বেআইনি পারমিট দেওয়াকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি সংঘাত সিআইটিইউ (CITU) এবং বিজেপি (BJP) অটো ইউনিয়নের। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বচসা, ধাক্কাধাক্কি ও মারপিটের জেরে রবিবার বন্ধ হয়ে গেল ওই রুটের প্রায় ২৫০টি অটো। বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অটো চালকদের একাংশ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অটোরুট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন দৈনন্দিন যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষজন।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় জইশ জাল! দুর্গাপুরে সতর্ক প্রশাসন
বিবাদের আসল কারণ কী?
ঘটনার সূত্রপাত রুট-পারমিট ছাড়া একটি অটোর চলাচলকে কেন্দ্র করে:
-
CITU-র অভিযোগ: রুট পারমিট ও নিয়মকানুন ছাড়াই একটি বেআইনি অটো দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে চালানো হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পরই হঠাৎ বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা এসে হামলা চালায় এবং সাধারণ ঢঙে পোস্টার ফেলে অটো চলাচল বন্ধ করে দেয়।
-
বিজেপি অটো ইউনিয়নের পাল্টা দাবি: যে অটো চালককে আটকানো হচ্ছিল, তিনি একজন বয়স্ক ব্যক্তি। তিনি স্থানীয় বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর কাছে গেলে, বিধায়ক তাঁর নিজস্ব অফিশিয়াল লেটার প্যাডে লিখে নির্দেশ দেন যেন ওই বয়স্ক ব্যক্তিকে অটো চালাতে দেওয়া হয়। কিন্তু সিআইটিইউ সদস্যরা তা অমান্য করে বিধায়ককে অপমানজনক কথা বলেন এবং বাধা দেন।
বাইক বাহিনীর হামলা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত
অটো চালকদের বয়ান অনুযায়ী, বিবাদের খবর ছড়াতেই হঠাৎ ১০-১২টি বাইকে করে এসে একাধিক সশস্ত্র যুবক স্ট্যান্ডে চড়াও হয়। নিমেষের মধ্যে ‘লাইন বন্ধ’ ঘোষণা করে অটো চালকদের ওপর চড়াও হয় তারা।
আহত এক অটো চালকের কথায়:
“আমরা ওইখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হুট করে এসে বলছে লাইন বন্ধ, অটো চালানো যাবে না। একজন বয়স্ক মানুষকে ধরে মারধর করা হচ্ছিল। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও অটোর পেছনে ফেলে বেদম মারধর করা হয়।”
ঘটনায় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা খবর সংগ্রহ করতে গেলে তাঁদেরও বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন অটো চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ গুজরাতের RTI কর্মীর চিঠিতে শোরগোল! অভিজিৎ দিপকের বাবার সম্পত্তির উৎস ও CJP-র ফান্ডিং ঘিরে তদন্তের দাবি
অচলাবস্থায় সাধারণ মানুষ
ঘটনার সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বাঘাযতীন-রানিকুঠি রুটে পরিষেবা পুরোপুরি স্তব্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্ষুব্ধ চালকেরা। প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী এই রুটের ওপর নির্ভর করেন। বাস ও বিকল্প যানবাহনের খোঁজে রাস্তায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


