Monday, 21 September, 2026
21 September
Homeদক্ষিণবঙ্গDurga Puja: দুর্গাপূজার অনেক বাকি; তবুও মছলন্দপুরে কাঠের ফ্রেমে মহিলা ঢাকিদের আগমনীর...

Durga Puja: দুর্গাপূজার অনেক বাকি; তবুও মছলন্দপুরে কাঠের ফ্রেমে মহিলা ঢাকিদের আগমনীর সুর

স্বামীর পাশে দাঁড়াতে এবং সংসারের হাল ধরতে এলাকার নারীদের একত্রিত করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি স্বনির্ভর মহিলা ঢাকি দল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

মছলন্দপুর (উত্তর ২৪ পরগনা):

দুর্গাপূজা আসতে এখনও ঢের দেরি, কিন্তু তাই বলে কি লোক সংস্কৃতির চিরন্তন রেওয়াজ থেমে থাকে? উত্তর ২৪ পরগনার মছলন্দপুরে রেললাইনের ধারে ছোট্ট একফালি টিনের ঘর থেকে ভেসে আসছে গম্ভীর ঢাকের শব্দ। কাঠ আর চামড়ার আদি কাঠামোয় নিপুণ হাতে সেই শব্দে ছন্দ তুলছেন যাঁরা, তাঁরা কেউ পুরুষ নন—সবাই মহিলা ঢাকি। ঢাকের সেই গুরুগম্ভীর গর্জন যেন বহু পূর্বেই জানান দিচ্ছে দেবী দুর্গার আগমন বার্তা।

বাঙালির উৎসবে ঢাকের ধ্বনি এক প্রাচীন মঙ্গলধ্বনি হিসেবে আদৃত। তবে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই লোকশিল্পে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। বংশপরম্পরায় ঢাক তৈরি ও বাজানোর কাজ আঁকড়ে ধরে আছেন মছলন্দপুরের বিশিষ্ট শিল্প ও ঢাকি সমীর দাস এবং তাঁর স্ত্রী শীলা দাস।

আরও পড়ুনঃ পেরুতে ‘নাজকা লাইনস’ দেখার পথে মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা; ২ পাইলটসহ ১৩ জন পর্যটকের মৃত্যু

গাছের গুঁড়ি থেকে পূর্ণাঙ্গ ঢাক: একটি সুসংগঠিত শিল্প

ঢাক তৈরির সূক্ষ্ম কারিগরি ও ধাপগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে শিল্প সমীর দাস জানান, আধুনিক যুগে টিনের তৈরি হালকা ঢাকের বাজার বাড়লেও কাঠের ঢাকের শব্দ ও গাম্ভীর্যের সমতুল্য কিছুই হতে পারে না।

  • কাঁচামাল ও ফ্রেম তৈরি: আম গাছের বড় গুঁড়ি কেটে করাতকলে নির্দিষ্ট মাপে টুকরো করা হয়। তা দিয়েই তৈরি হয় ঢাকের মূল কাঠের ফ্রেম।

  • চামড়া ও সংযোজন: ফ্রেম ছাঁটার পর তাতে বসানো হয় ছাগল বা গরুর চামড়া, শক্ত দোয়ালি (চামড়ার ফিতে) এবং চাক।

  • চূড়ান্ত রূপ: সবশেষে গাঢ় রঙের প্রলেপ দিয়ে তৈরি হয় একেকটি পূর্ণাঙ্গ নিখুঁত ঢাক। সমীরবাবুর হাতে তৈরি ঢাক আজ কেবল রাজ্যে নয়, পাড়ি দিয়েছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

সংসারের হাল ধরতে তৈরি মহিলা ঢাকি দল

ঐতিহ্যগতভাবে ঢাক বাজানোর কাজটি পুরুষদের একচ্ছত্র অধিকার বলে মনে করা হতো। কিন্তু সেই পুরোনো সামাজিক ধারণা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন শীলা দাস। স্বামীর পাশে দাঁড়াতে এবং সংসারের হাল ধরতে এলাকার নারীদের একত্রিত করে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি স্বনির্ভর মহিলা ঢাকি দল

বিগত ২০ বছর ধরে এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শীলা দেবী। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তিনি বলেন:

“বিয়ের পর শ্বশুরবাড়িতে এসে সবাইকে ঢাক তৈরি ও বাজাতে দেখতাম। স্বামীকে সাহায্য করার ইচ্ছে থেকেই ঢাকের প্রতি ভালোবাসা জন্মায়। ধীরে ধীরে বাজানো শিখে ফেলি। আজ একজন মহিলা ঢাকি হিসেবে নিজের পরিচয় দিতে সত্যি গর্ব বোধ হয়। যদিও এ বছর সরকারের পরিবর্তনের পর বুক ভরা আশা ছিল, তবে এখনও বাজার কিছুটা মন্দা এবং কথাবার্তার মধ্যেই বায়না আটকে আছে।”

আরও পড়ুনঃ সিজেপি-বিক্ষোভের পর এবার মুখ খুললেন ডোভাল

ইতিহাসের পাতায় ঢাকের বিবর্তন

বিষয় তথ্য ও ঐতিহাসিক পটভূমি
প্রাচীন নাম ‘ডঙ্কা’ বা শাস্ত্রীয় ভাষায় ‘ঢক্কা’
শব্দগত উৎপত্তি ‘ডং ডং’ অনুকার শব্দ থেকে এসেছে ডঙ্কা, যা থেকে পরবর্তীতে ‘ঢাক’ শব্দটির উৎপত্তি।
আদিম ব্যবহার আদিম মানুষ আনন্দ প্রকাশ, বন্যপ্রাণী তাড়াতে এবং শত্রুর আগমনের সংকেত হিসেবে এটি ব্যবহার করত।
ঐতিহাসিক উল্লেখ প্রাচীন ভরত মুনির ‘নাট্যশাস্ত্র’-তেও পূর্ববঙ্গে ঢাকের বহুল ব্যবহারের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের কাছে লোক বাদ্যযন্ত্রের ইতিহাস হয়তো খানিকটা অধরা, তবুও দুর্গাপূজার সঙ্গে এই ঢাকের অবিচ্ছেদ্য আত্মিক সম্পর্ককে অস্বীকার করার উপায় নেই। অভাব ও মন্দা সত্ত্বেও মছলন্দপুরের একফালি টিনের ঘরে সমীর-শীলা দম্পতির এই অদম্য লড়াই প্রমাণ করে—বাঙালির ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি আজও কতটা জীবন্ত!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন