কলকাতা:
পূর্ণিমা রাতে আকাশে চাঁদের অর্থাৎ ‘শশী’র দ্যুতি সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভার চিত্রটা যেন ঠিক তার বিপরীত! বিজয়ী প্রার্থী বিজেপি-র পূর্ণিমা চক্রবর্তীর আলোর মাঝে আচমকাই আড়ালে চলে গিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী ডঃ শশী পাঁজা।
বিধানসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর কাছে ১৪,৬ ৩৩ ভোটে পরাজিত হওয়ার পর থেকে শ্যামপুকুরের কোনো দলীয় কর্মসূচি বা সামাজিক অনুষ্ঠানে ডঃ শশী পাঁজাকে দেখা যাচ্ছিল না। দীর্ঘদিনের এই আত্মগোপন ও অনুপস্থিতির পর অবশেষে দেখা মিলল তাঁর—তা-ও আবার দলত্যাগী নেত্রী ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রাইভেট ফার্টিলিটি ক্লিনিকে।
আরও পড়ুনঃ পেঁয়াজের দামের ঝাঁজে চোখে জল আম জনতার
দুই চিকিৎসক নেত্রীর আচমকা সাক্ষাৎ: শনিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি থেকে মাত্র ৮০০ মিটার দূরে অবস্থিত ডঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ‘ঘোষ দস্তিদার ইনস্টিটিউট অফ ফার্টিলিটি রিসার্চ’-এ প্রবেশ করতে দেখা যায় ডঃ শশী পাঁজাকে। পেশাগত দিক থেকে দু’জনেই চিকিৎসক হলেও বর্তমানে দু’জনের কেউই নিয়মিত ডাক্তারি প্র্যাকটিস করেন না। ফলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের বাড়ি সংলগ্ন ক্লিনিকে শশী পাঁজার এই উপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুচকি হেসে শশী পাঁজা সংক্ষেপে কেবল বলেন,
“ওই এমনি ক্লিনিকে এলাম।”
আরও পড়ুনঃ ব্রড পিকে ভয়াবহ তুষারধস; নিখোঁজ বিশ্বখ্যাত পর্বতারোহী ‘নিমসদাই’
একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল নারী ব্রিগেডের চার প্রধান স্তম্ভ ছিলেন—কাকলি ঘোষ দস্তিদার, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং শশী পাঁজা। কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছিলেন ‘বঙ্গ জননী বাহিনী’র সভানেত্রী। প্রথম তিনজন ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করেছেন। কেবল শশী পঁাজাই এতদিন দলে ছিলেন। কাকলির চেম্বারে তাঁর এই ঝটিকা সফর কি তবে তাঁরও দলবদলের নতুন অধ্যায়ের সঙ্কেত?


