বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
রসগোল্লা, কাটি রোল থেকে মাটন বিরিয়ানি— খাঁটি খাবারের টানেই তিলোত্তমার নাম বিশ্বজুড়ে। কিন্তু সেই নামজাদা সব রেস্তরাঁর ঝলমলে আলো ও সুগন্ধের পেছনে লুকিয়ে ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ছত্রাক পড়া পচা খাবার এবং মাসের পর মাস ব্যবহার করা পোড়া তেল। আর মাত্র এক মাস পর দুর্গাপুজো, তার আগেই কলকাতার খাদ্যরসিকদের জন্য চরম উদ্বেগজনক খবর সামনে আনল কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষার (Food Safety) বিশেষ দল। গত এক সপ্তাহ ধরে চলা সাঁড়াশি অভিযানে ১৭০টি রেস্তরাঁয় তল্লাশি চালিয়ে ৪০টি নামজাদা রেস্তরাঁ ও দোকানের লাইসেন্স স্থগিত (Suspend) করে তালা ঝুলিয়ে দিল পুরসভা। নষ্ট করা হয়েছে প্রায় দেড় টন পচা ও নিম্নমানের খাবার।
আরও পড়ুনঃ গাঙ্গেয় বদ্বীপে বজ্রপাতের মারণ থাবা; আজ সারা দুপুর তুমুল বজ্রপাত ও বৃষ্টি কলকাতা-সহ আশপাশে
অভিযানের জালে কোন কোন ঐতিহ্যবাহী ও হেভিওয়েট রেস্তরাঁ?
শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে শুরু করে উত্তর, দক্ষিণ ও বাইপাসের ধারের একাধিক বড় ব্র্যান্ডের রান্নাঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে পচা মাংস, বিষাক্ত কেমিক্যাল এবং ফাঙ্গাস পড়া খাদ্যসামগ্রী:
| এলাকার নাম | অভিযুক্ত ও লাইসেন্স স্থগিত হওয়া রেস্তরাঁ/দোকান |
| ধর্মতলা ও রিপন স্ট্রিট | ধর্মতলার ঐতিহ্যবাহী ‘নিজামস’ (Nizam’s), রিপন স্ট্রিটের ‘করিমস’ (Karim’s)। |
| ইএম বাইপাস ও বারাসত | ইএম বাইপাসের নামকরা ‘শিমলা বিরিয়ানি’, বারাসতের একটি শপিং মলের ফুড প্লাজা। |
| পার্ক স্ট্রিট ও চায়না টাউন | পার্ক স্ট্রিটের জনপ্রিয় ‘তুং ফং’ (Tung Fong), ‘মোক্যাম্বো’ (Mocambo) এবং ট্যাংরা-চায়না টাউনের ‘বিগ বস’ (Big Boss)। |
| অন্যান্য অঞ্চল | ডেকার্স লেনের বেশ কিছু দোকান, গড়িয়ার একাধিক রেস্তরাঁ, কলকাতার বিখ্যাত ‘পনিরপট্টি’ ও শহরের বেশ কিছু বড় মিষ্টির দোকান। |
মূল অভিযোগ ও সুরক্ষাবিধির চরম লঙ্ঘন
কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকদের মতে, তল্লাশি চালাতে গিয়ে যে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে তা আঁতকে ওঠার মতো:
-
বিষাক্ত পোড়া তেল: যে ভোজ্যতেলে সর্বোচ্চ ৩ বার রান্না করার নিয়ম, সেখানে একই তেল বারবার গরম করে শত শত বার রান্না করা হয়েছে—যা সরাসরি খাবারে কার্সিনোজেনিক বা বিষাক্ত উপাদান তৈরি করছে।
-
পচা ও ছত্রাকযুক্ত খাবার: রেস্তরাঁগুলির স্টোররুমে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পচা মাংস, ছত্রাক (Fungus) ধরা মশলা ও বিষাক্ত রাসায়নিক রঙ উদ্ধার করা হয়েছে।
-
চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণের জায়গায় বিন্দুমাত্র পরিচ্ছন্নতা বা স্বাস্থ্যবিধি (Hygiene) মানা হচ্ছিল না।
আরও পড়ুনঃ কোথায় পাচ্ছে কলকাতার মানুষ এত টাকা? কম বার্ষিক আয়েও বাজার ধরে রেখেছে কলকাতা
লাইসেন্স স্থগিতের পর পরবর্তী পদক্ষেপ
মঙ্গলবার পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এই ৪০টি রেস্তরাঁ ও দোকানের খাবার বিক্রির লাইসেন্স স্থগিত রাখা হয়েছে। সূত্রের খবর, যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাদের কর্মী ও শেফদের খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ (Training) দেওয়া হতে পারে। তবে কতদিন পর বা কোন শর্তে তাদের আবার ব্যবসা চালুর অনুমতি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কলকাতা পুরসভা এখনও কোনো চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। পুজোর মুখে শহরের বড় বড় রেস্তরাঁর এই হাল সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।


