বিশেষ সামাজিক ও রাজনৈতিক মতামত-বিশ্লেষণ:
টিভির বিনোদনমূলক শো ‘দাদাগিরি’-র সেটে কুণাল ঘোষ, কৌস্তুভ বাগচী, সজল ঘোষ, নওশাদ সিদ্দিকী এবং সিপিআই(এম)-এর ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের হাসিমুখ ও খুনসুটি দেখতে বেশ মনোরম। পাশাপাশি উত্তম কুমারের স্মরণে কিংবা টলিউডের বড় আয়োজনে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীদের উদাত্ত কণ্ঠে গান গাওয়া ও বিরোধী নেতাদের সাথে খোশগল্প—এ সবই হয়তো আধুনিক “রাজনৈতিক সৌজন্য”-এর মোড়কে পেশ করা হয়। কিন্তু স্ক্রিনের এই ঝকমকে আলোর বাইরে বাস্তব রাজনীতির ময়দানে কিন্তু ছবিটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। নীচের তলায় বোমা-বন্দুক, ডিম ছোড়া, দখলদারি এবং বুথ দখলের রাজনীতি আজও বিদ্যমান।
রাজনীতিতে দ্বিচারিতা: ওপর বনাম নিচের তলার বাস্তবতা
টিভি চ্যানেলের রিয়েলিটি শো বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের “সৌজন্যের রাজনীতি” কেন গ্রামীণ বা শহরাঞ্চলের ওয়ার্ড স্তরে পৌঁছায় না, তার পেছনের প্রধান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক কারণসমূহ:
কেন বন্ধ হয় না এই রাজনৈতিক হানাহানি?
সংসদীয় এলাকায় তারকা রাজনীতিকদের নীতি কথা কিংবা টিভি সেটের এই অকৃত্রিম হাসিমুখ কখনোই মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক হিংসা থামাতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন:
-
আর্থিক ভিত্তি ও তোলাবাজি: গ্রামীণ ও শহর এলাকায় কর্মসংস্থানের চরম অভাব রয়েছে। ফলে স্থানীয় স্তরে ক্ষমতা দখল করা মানেই তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ব্যবসা ও সরকারি প্রকল্পের টাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করা।
-
ভোটের জমি ও মাস্তানি: যে দল নীচের স্তরে যতটা সন্ত্রাস বা চমক-ধমক বজায় রাখতে পারে, ভোটের দিন সেই দলই বিরোধী শূন্য করে পঞ্চায়েত ও পুরসভা জয় নিশ্চিত করে।
-
ক্যাডারদের ব্যবহার: ওপর তলার নেতারা দল বদলে এনসিপি বা তৃণমূল কিংবা বিজেপিতে সহজে নিজেদের স্থান পাকা করে নেন এবং সৌজন্য বজায় রাখেন, অথচ দলগত আক্রোশে মামলা-ঝামেলা ও রক্তপাতে জড়িয়ে থাকেন কেবল নিচের স্তরের কর্মীরা।
পরিশেষ
উপরে ‘দোস্তি’ আর নিচে ‘কুস্তি’—বাংলার রাজনীতির এই পুরোনো সমীকরণ আধুনিক মিডিয়া যুগে আরও বেশি স্পষ্ট ও তামাশায় পরিণত হয়েছে। ওপর তলার নেতাদের এই দোস্তির ন্যারেটিভ সাধারণ কর্মীকে শুধুই বিভ্রান্ত করে। সত্যি বলতে, ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’—বাংলা রাজনীতির কড়চা আজও এই বাক্যটির মধ্যেই আটকে রয়েছে।


