Friday, 17 April, 2026
17 April
HomeদেশNHRC Notice: মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নের মুখে রেলমন্ত্রী মমতার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’! জাতীয় রাজনীতিতে...

NHRC Notice: মানবাধিকার কমিশনের প্রশ্নের মুখে রেলমন্ত্রী মমতার ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’! জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্ক

অভিযোগ অনুযায়ী, সংখ্যালঘু সংরক্ষণ চালু হওয়ার ফলে SC, ST ও OBC শ্রেণির জন্য নির্ধারিত অংশ কার্যত সংকুচিত হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

২০১০ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নেওয়া একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত ফের আলোচনার কেন্দ্রে। ভারতীয় রেল এবং আইআরসিটিসি-র টেন্ডার নীতিতে সংখ্যালঘুদের জন্য সর্বোচ্চ ৯.৫ শতাংশ সংরক্ষণ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার রেল বোর্ডকে নোটিস পাঠাল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অভিযোগ, ওই নীতির ফলে সংবিধান নির্ধারিত তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি  এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি-র অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ ভারতেই ফিরতে হলো মহম্মদ ইউনুসকে! কিন্তু কেন?

এই নোটিসের সূত্রপাত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে, যা দায়ের করেছে ‘লিগ্যাল রাইটস অবজারভেটরি’ নামে একটি সংগঠন। তাদের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে আইআরসিটিসির টেন্ডার নীতিতে হঠাৎ করে সংখ্যালঘু সংরক্ষণ চালু করা হয়, যা সংবিধানের সমানাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। বিশেষ করে সরকারি চুক্তি ও বাণিজ্যিক টেন্ডারের ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক সংরক্ষণ কতটা সাংবিধানিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে ওই সংগঠন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংখ্যালঘু সংরক্ষণ চালু হওয়ার ফলে SC, ST ও OBC শ্রেণির জন্য নির্ধারিত অংশ কার্যত সংকুচিত হয়েছে। এর ফলে বহু যোগ্য আবেদনকারী টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি। লিগ্যাল রাইটস অবজারভেটরি আরও জানিয়েছে, কোনও বিস্তৃত সংসদীয় আলোচনা বা সাংবিধানিক সংশোধন ছাড়াই এই নীতি কার্যকর করা হয়েছিল, যা প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার বলেও তারা মনে করছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রেল বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে। কমিশনের নোটিসে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংখ্যালঘু সংরক্ষণ চালুর আইনি ভিত্তি কী ছিল।

এতে SC/ST/OBC সংরক্ষণে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, কোনও সাংবিধানিক বা আইনি পর্যালোচনা করা হয়েছিল কি না। মানবাধিকার কমিশনের মতে, যদি কোনও নীতির ফলে নির্দিষ্ট সামাজিক গোষ্ঠীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়, তবে তা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে। তাই বিষয়টি শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সাংবিধানিক গুরুত্বও বহন করে।

আরও পড়ুনঃ ‘খারাপ দিন আসছে!’ মোদীকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

রাজনৈতিক মহলে এই নোটিস ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, এটি তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজনীতির তথাকথিত ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ নীতিরই প্রতিফলন। অন্যদিকে তৃণমূলের সমর্থকরা বলছেন, সংখ্যালঘুদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তা কোনওভাবেই অন্য শ্রেণির অধিকার কেড়ে নেয়নি।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নীতি পরিবর্তনের পর এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও এতদিন বিষয়টি বড় কোনও সাংবিধানিক তদন্তের মুখোমুখি হয়নি। NHRC-র এই নোটিস নতুন করে সেই পুরনো সিদ্ধান্তের উপর আলো ফেলল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ।

এখন দেখার, রেল বোর্ড কী ব্যাখ্যা দেয় এবং এই নোটিসের পর ভবিষ্যতে আইআরসিটিসি-র টেন্ডার নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসে কি না। তবে এটুকু স্পষ্ট, ২০১০ সালের একটি সিদ্ধান্ত ২০২৬-এর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ফের জাতীয় রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিল।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন