কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি শহরের অন্যতম প্রধান মাথাব্যথার কারণ হলো যানজট। বিশেষ করে জংশন এবং হিলকার্ট রোড এলাকায় সন্ধ্যা নামলেই ট্রাফিকের চেনা নরকগুলজার রূপ সামনে আসত। তবে এবার সেই চেনা ভোগান্তি থেকে শহরবাসীকে মুক্তি দিতে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় পদক্ষেপ নিল শিলিগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে জংশন এলাকায় রাস্তার ওপর যত্রতত্র দাঁড়িয়ে আর যাত্রী তুলতে পারবে না দূরপাল্লার কোনো বেসরকারি বাস।
আরও পড়ুনঃ অন্দরে অস্বস্তি, তৃণমূলের দিকে তাকানো যাচ্ছে না; আজ মমতার পথে নামার দিনই ভাঙছে তৃণমূল
দীর্ঘদিন ধরেই শিলিগুড়ির সাধারণ মানুষ ও নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ ছিল, বিকেল গড়াতেই হিলকার্ট রোড ও জংশন মোড় সংলগ্ন প্রধান রাস্তার ওপর সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত কলকাতা, পাটনা, রাঁচি কিংবা আসামগামী একাধিক দূরপাল্লার বিলাসবহুল বাস। রাস্তার একটা বড় অংশ জুড়ে বেআইনিভাবে এই যাত্রী ওঠানামার খেসারত দিতে হতো সাধারণ মানুষকে। তৈরি হতো মাইলের পর মাইল তীব্র যানজট। অবশেষে সেই ট্রাফিক জটলা কাটানোর দাওয়াই খুঁজতেই রবিবার সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শনে যান ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ট্রাফিক পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
পরিদর্শন শেষে ট্রাফিক পুলিশের তরফে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিকেল পাঁচটার পর কলকাতা, পাটনা, রাঁচি, আসাম-সহ বিভিন্ন রুটের সমস্ত দূরপাল্লার বাসকে বাধ্যতামূলকভাবে তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসের ভেতর থেকেই ছাড়তে হবে। টার্মিনাসের যে অংশটি সন্ধ্যার পর মূলত ফাঁকা থাকে, সেই জায়গাটিকেই এবার দূরপাল্লার বাসের বোর্ডিং পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
শুধু যাত্রী তোলাই নয়, দূরপাল্লার বাসের ড্রপিং পয়েন্ট বা যাত্রী নামানোর নিয়মেও আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন। ট্রাফিক পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, সকাল ৯টার পর আর কোনো দূরপাল্লার বাস যাত্রী নামানোর ছুতোয় শিলিগুড়ি শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ওই সমস্ত বাসকে এবার থেকে নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে সরাসরি মাটিগাড়ার পরিবহন নগরে গিয়েই যাত্রী নামাতে হবে।
এই বিষয়ে ডিসিপি ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ জানান, শিলিগুড়ি শহরের যানজটের দাপট কমানো এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও মসৃণ ও সহজ করাই এই নতুন উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ট্রাফিক পুলিশের এই কড়া অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও। দীপঙ্কর রাউত নামে এক পর্যটক বলেন, এই নতুন নিয়মের ফলে শিলিগুড়ির ট্রাফিক ব্যবস্থা যেমন আরও সুশৃঙ্খল হবে, তেমনই পাহাড়ে আসা-যাওয়া করা পর্যটকদেরও যাতায়াতে অনেক সুবিধা হবে। এখন দেখার, পুলিশের এই নতুন দাওয়াইতে জংশনের চেনা জট কতটা কাটে।



