রাজনীতির ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরেই ধর্না ও প্রতিবাদ কর্মসূচির প্রতীকী মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার ধর্নায় বসে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বা বিভিন্ন নীতির বিরোধিতায় সরব হয়েছেন তিনি। কখনও বিরোধী নেত্রী হিসেবে, আবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বিরোধিতা থেকে শুরু করে ‘বাঙালি অস্মিতা’ রক্ষার দাবিতে তাঁর আন্দোলন বারবার রাজ্য-রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
কিন্তু এবার পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার এক মাসের মধ্যেই ফের ধর্নায় বসতে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে এই প্রতিবাদের ছবিটি আগের তুলনায় একেবারেই আলাদা বলেই রাজনৈতিক মহলের দাবি। কারণ, অতীতে যখনই তিনি ধর্নায় বসেছেন, তখন তাঁর পাশে দলে দলে উপস্থিত থেকেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক, সাংসদ এবং শীর্ষ নেতৃত্ব। দলীয় ঐক্যের শক্ত বার্তা দিতে প্রায় পুরো নেতৃত্বই হাজির থাকত সেই সব কর্মসূচিতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ভোটের কয়েক মাস আগে যখন এসআইআর (SIR)-এর বিরোধিতায় তৃণমূল প্রতিবাদ মঞ্চ তৈরি করেছিল, তখন রাজ্যের প্রায় সব শীর্ষ নেতা-নেত্রীকে সেই মঞ্চে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় দলীয় ঐক্য এবং সংগঠনের শক্তি প্রদর্শনে কোনও ঘাটতি ছিল না। কিন্তু এবার চিত্র অনেকটাই ভিন্ন।
আরও পড়ুনঃ ফুটপাথ মানুষের জন্য, উদ্বেগের মধ্যে বার্তা পুরসভার; কলেজ স্ট্রিটেও বুলডোজার চলবে নাকি?
বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে রাজ্য বিধানসভায় ৭৮ জন বিধায়ক রয়েছেন (এর মধ্যে দুজনকে সম্প্রতি বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে)। পাশাপাশি লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে দলের মোট ৪১ জন সাংসদ রয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক জনপ্রতিনিধি থাকা সত্ত্বেও ধর্না মঞ্চে উপস্থিতির চিত্র অনেকটাই ফাঁকা বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক ধর্না মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে মাত্র ৫ জন সাংসদ এবং গুটিকয়েক বিধায়ককে। এই সীমিত উপস্থিতি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে, এত বড় দলীয় শক্তি থাকা সত্ত্বেও কেন মমতার এই কর্মসূচিতে উপস্থিতি এত কম? এটি কি কৌশলগত সিদ্ধান্ত, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের প্রতিফলন?



