সরস্বতী পুজো পদ্ধতি সংক্ষিপ্ত
আচমন– গরুর কানের ন্যায় হাতের তেলো করে, ডান হাতের বুড়ো আঙ্গুলের গোড়ায় মাষকলাই ডুবতে দর য পারে এমন পরিমাণ জল নিয়ে ‘ওঁ বিষ্ণু’ মন্ত্রে তিনবার জল পান হাত ধুয়ে হাত জোড় করে পাঠ করবে :
ওঁ তদ্বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ
দিবীব চক্ষুরাততম্ ৼ ওঁ বিষ্ণুঃ ওঁ বিষ্ণুঃ ওঁ বিষ্ণুঃ ।
ওঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোহপি বা
যঃ স্মরেৎ পুণ্ডরীকাক্ষং স বাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।
গন্ধাদির অর্চনা– ‘ওঁ এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ’ -মন্ত্রে পুষ্পপাত্রে সাজানো গন্ধ ও পুষ্পাদিতে জলের দ্বারা তিনবার প্রোক্ষণ ( চিৎ হাতে জলের ছিটা ) করবে। পরে গন্ধপুষ্প নিয়ে ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতেভ্যো গন্ধাদিভ্যো নমঃ’ বলে পুষ্পপাত্রে দিবে এবং হাতে এক একটি গন্ধপুষ্প নিয়ে নিচের এক একটি মন্ত্র বলে বলে গন্ধপুষ্প তাম্রকুণ্ডে দিয়ে দিয়ে পূজা করবে।
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতদধিপতয়ে দেবায় শ্রীবিষ্ণবে নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে এতৎসম্প্রদানেভ্যঃ পূজনীয়দেবতাভ্যো নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে শ্রীগুরবে নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে গণেশাদিপঞ্চদেবতাভ্যো নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে নমো নারায়ণায় নমঃ’;
‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ব্রাহ্মণেভ্যো নমঃ’।
আরও পড়ুনঃ চাঞ্চল্য বালুরঘাটে! আত্রাই খারিতে কঙ্কাল
৩। সূর্যার্ঘ্য– কুশীতে জল, রক্তপুষ্প, রক্তচন্দন, আতপ চাল, যব, তিল, সরিষা, কুশের অগ্র ও দুর্বা নিয়ে নিম্নোক্ত মন্ত্রে নিবেদন করবে : ‘ওঁ নমো বিবস্বতে ব্রহ্মন্ ভাস্বতে বিষ্ণুতেজসে।
জগৎসবিত্রে শুচয়ে সবিত্রে কর্মদায়িনে।
এষোহর্ঘ্যঃ শ্রীসূর্যায় নমঃ’
প্রনাম ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম্ ।ধান্তারিং সর্বপাপঘ্নং প্রণতোহস্মি দিবাকরম্ ।
স্বস্তিবাচন– ‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ গনেশাদি নানা দেবতা পূজা পূর্বক লেখনী মস্যাধার সহিত সরস্বতী পূজাকর্মণি ওঁ পুণ্যাহং ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ পুণ্যাহং’ তিনবার বলতে বলতে ঘণ্টাবাদনপূর্বক আতপ চাল ছড়াবে।
‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ গনেশাদি নানা দেবতা পূজা পূর্বক লেখনী মস্যাধার সহিত সরস্বতী পূজাকর্মণি ওঁ স্বস্তি ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ স্বস্তি’ তিনবার বলতে বলতে ঘণ্টাবাদনপূর্বক আতপ চাল ছড়াবে।
‘ওঁ কর্তব্যেহস্মিন্ গনেশাদি নানা দেবতা পূজা পূর্বক লেখনী মস্যাধার সহিত সরস্বতী পূজাকর্মণি ওঁ ঋদ্ধিং ভবন্তো ব্রুবন্তু’। পরে ‘ওঁ ঋদ্ধ্যতাম্’ তিনবার বলতে বলতে ঘণ্টাবাদনপূর্বক আতপ চাল ছড়াবে। পরে নিম্নোক্ত মন্ত্রপাঠ ও ঘণ্টাবাদনসহ আতপ চাল ছড়াবে।
যজুর্বেদীয়-স্বস্তিবাচন– ওঁ স্বস্তি ন ইন্দ্রো বৃদ্ধশ্রবাঃ স্বস্তি নঃ পূষা বিশ্ববেদাঃ ।
স্বস্তি নস্তার্ক্ষো অরিষ্টনেমিঃ স্বস্তি নো বৃহস্পতির্দধাতু।
ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি ওঁ স্বস্তি।
আব্রাক্ষন গন ওঁ স্থলে নমঃ বলবে

সঙ্কল্প– তাম্রপাত্রে ( কুশীতে ) তিনটি কুশ, তিল, তুলসী, হরিতকী, গন্ধ, পুষ্প, আতপ চাল ও জল নিয়ে পূর্বমুখী ( বা উত্তরমুখী ) বসবে। বাম করতলে কুশী স্থাপন করে দক্ষিণ করতল দ্বারা আচ্ছাদনপূর্বক পাঠ করবে ।
বিষ্ণুরোম্ তৎসদদ্য মাঘে মাসি শুক্লেপক্ষে পঞ্চম্যান্তিথৌ অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকদেবশর্মা ( পরার্থে- অমুকগোত্রস্য অমুকদেবশর্মণঃ ) [অমুকগোত্রঃ শ্রীঅমুকঃ (যজমানের গোত্র ও নাম)] সরস্বতী প্রীতিকামনায়া লেখনী মস্যাধার সহিত সরস্বতী পূজাকর্ম অহং করিষ্যে
( পরার্থে- করিষ্যামি )।
পরে হাতের পাত্রটি ঈশান কোণে উপুড় করে রেখে তার উপর নিম্নোক্ত মন্ত্রে আতপ চাল ছড়াবে এবং ঘণ্টা
বাজাবে-
যজুর্বেদীয় সঙ্কল্পসূক্ত- ওঁ যজ্জাগ্রতো দূরমুদৈতি দৈবং তদু সুপ্তস্য তথৈবৈতি।
দূরঙ্গমং জ্যোতিষাং জ্যোতিরেকং তন্মে মনঃ শিবসঙ্কল্পমস্তু।
ঘট স্থাপন
ওঁ সর্বতীর্থোদ্ভবং বারি সর্বদেবসমন্বিতম।
ইমং ঘটং সমারুহ্য তিষ্ঠ দেবি গণৈঃ সহ।
ঘটস্পর্শ করে পাঠ করবে- ওঁ স্থাং স্থীং স্থিরো ভব।
ব্রাক্ষন গন বৈদিক গায়েত্রী পাঠ করবেন- ওঁ ভূর্ভুবঃ স্বঃ তৎ সবিতুর্বরেণ্যং ভর্গো দেবস্য ধীমহি ধিয়ো যো নঃ প্রচোদয়াৎ ওঁ।। -এই মন্ত্রও ঘট স্পর্শ করে তিনবার পাঠ করবে।
সামান্যার্ঘ্যস্থাপন– নিজের সামনে একটু বামদিকের ভূমিতে অধোমুখ ত্রিকোণ (পুং দেবতা হলে উর্ধমুখ), বৃত্ত ও চতুর্ভুজ মণ্ডল এঁকে তদুপরি পূজা করবে-
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তাদিভ্যো নমঃ।
পরে ‘ফট্’ মন্ত্রে কোশা ধুয়ে মণ্ডলোপরি স্থাপন করে ‘নমঃ’ মন্ত্রে জলপূর্ণ করবে এবং ‘ওঁ’ মন্ত্রে কোশার অগ্রভাগে একটি অর্ঘ্য (বিল্বপত্র, গন্ধপুষ্প, দুর্বা ও আতপ চাল) সাজিয়ে দিবে। ‘ওঁ’ মন্ত্রে দূর্বা, অক্ষত বিল্বপত্র, চন্দন, পুষ্প, তুলসীপত্র, আতপ চাল কোশার জলে নিক্ষেপ করবে। পরে অঙ্কুশ মুদ্রায় জল স্পর্শ করে নিম্নোক্ত মন্ত্রে সূর্যমণ্ডল হতে তীর্থ আবাহন করবে-
ওঁ গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরি সরস্বতি।
নর্মদে সিন্ধু কাবেরি জলেহস্মিন্ সন্নিধিং কুরু।।
অতঃপর ‘ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে তীর্থেভ্যো নমঃ’ মন্ত্রে জলে তীর্থপূজা করে ‘হূঁ’ মন্ত্রে অবগুণ্ঠন মুদ্রা ও ‘বং’ মন্ত্রে ধেনুমুদ্রা প্রদর্শনপূর্বক মৎস্যমুদ্রায় জল আচ্ছাদন করে ১০ বার ‘ওঁ’ মন্ত্র জপ করবে।
এরপর সামান্যার্ঘ্যের জল নিজের মাথায় ও দ্বারদেশে ছিটিয়ে দিয়ে দ্বারদেবতার পূজা করবে।
দ্বারদেবতাপূজা– ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে দ্বারদেবতাভ্যো নমঃ (নৈঋতকোণে); তাম্রকুণ্ডে- ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ব্রহ্মণে নমঃ; ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে বাস্তুপুরুষায় নমঃ
ভূতাপসারণ– ‘ওঁ অস্ত্রায় ফট্’ মন্ত্রে আতপ চালে সাতবার জপ করে তা ঘন্টাবাদন করতে করতে নিম্নোক্ত মন্ত্রে নারাচ মুদ্রায় (অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী যোগে) চারদিকে ছড়াবে-
ওঁ সর্ববিঘ্নানুৎসারয় হূঁ ফট্ স্বাহা।
ওঁ অপসর্পন্তু তে ভূতা যে ভূতা ভুবি সংস্থিতাঃ।
যে ভূতা বিঘ্নকর্তারস্তে নশ্যন্তু শিবাজ্ঞয়া
আসনশুদ্ধি– স্ববামে আসনের নিম্নবর্তী ভূমিতে ত্রিকোণ মণ্ডল এঁকে ‘ওঁ হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্ত্যাদিভ্যো নমঃ’ –মন্ত্রে মণ্ডল পূজা করবে। অতঃপর আসন স্পর্শ করে পাঠ করবে- ‘ওঁ অস্য আসনোপবেশনমন্ত্রস্য মেরুপৃষ্ঠ ঋষিঃ সুতলং ছন্দঃ কূর্মো দেবতা আসনোপবেশনে বিনিয়োগঃ’। পরে কৃতাঞ্জলিপূর্বক পাঠ-
ওঁ পৃথ্বি ত্বয়া ধৃতা লোকা দেবি ত্বং বিষ্ণুনা ধৃতা।
ত্বঞ্চ ধারয় মাং নিত্যং পবিত্রং কুরু চাসনম্ ।।
অতঃপর আসনের উপর ত্রিকোণ মণ্ডল এঁকে ‘হ্রীঁ এতে গন্ধপুষ্পে আধারশক্তয়ে কমলাসনায় নমঃ’- মন্ত্রে ঐ মণ্ডল গন্ধপুষ্প দ্বারা পূজা করবে।
১২। গুরুপ্রণাম– হাত জোড় করে প্রণাম করবে। বামকর্ণোর্ধ্বে- ঐঁ গুরুভ্যো নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরমগুরুভ্যো নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরাপরগুরুভ্যো নমঃ; তদূর্ধ্বে- ঐঁ পরমেষ্ঠিগুরুভ্যো নমঃ; দক্ষিণকর্ণোর্ধ্বে- ওঁ গণেশায় নমঃ; মধ্যে অর্থাৎ ললাটে বা হৃদয়ে ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
১৩। করশুদ্ধি– ‘হেঁসৌঃ’ মন্ত্রে একটি সচন্দন রক্তবর্ণ পুষ্প নিয়ে ‘আং হূং ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে উভয় করতল দিয়ে মর্দন করে বাম হাতের নারাচ মুদ্রায় সেই ফুলটিকে মাথার চারদিকে ‘ক্লীং’ মন্ত্রে ঘুরিয়ে ‘ঐং’ মন্ত্রে ঘ্রাণ নিয়ে ‘ফট্’ মন্ত্রে ঈশানকোণে নিক্ষেপ করবে।
১৪। পুষ্পশুদ্ধি– ‘ওঁ শতাভিষেক হূঁ ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে পুষ্পে জলের ছিটা দিয়ে ‘ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে সুপুষ্পে পুষ্পসম্ভবে পুষ্পচয়াবকীর্ণে চ হূঁ ফট্ স্বাহা’ মন্ত্রে পুষ্প স্পর্শ করে শোধন করবে।
১৫। ত্রিবিধ বিঘ্নাপসারণ– ‘ওঁ ঐঁ’ মন্ত্র উচ্চারণ করে ঊর্ধ্বে দৃষ্টিপাতকরতঃ দিব্যবিঘ্নাপসারণ করবে। তারপর তর্জনী ও মধ্যমা দ্বারা বাম করতলে ঊর্ধ্ব ঊর্ধ্ব ক্রমে তালত্রয় দিয়ে দক্ষিণ হস্তের অঙ্গুষ্ঠ ও তর্জনী দ্বারা পূর্বদিক থেকে আরম্ভ করে ঈশানকোণ পর্যন্ত এবং অধঃ ও ঊর্ধ্ব- এই দশ দিকে ‘ফট্’ মন্ত্রে তুড়ি দিয়ে দিগবন্ধন করবে। তারপর ‘ফট্’ মন্ত্রে বামপায়ের গোড়ালি দ্বারা ভূমিতে তিনবার আঘাত করে ভূমিবিঘ্ন অপসারণ করে ‘অস্ত্রায় ফট্’ মন্ত্রে ঊর্ধ্বদিকে জলের ছিটা দিয়ে অন্তরিক্ষবিঘ্ন দূর করবে।
বহ্নি প্রকার চিন্তা রং মন্ত্রে নিজের চারদিকে বৃত্তাকারে জল প্রক্ষন
ভূতশুদ্ধি (সংক্ষিপ্ত)- স্বক্রোড়ে বাম হাতের উপর ডান হাত চিৎভাবে স্থাপন করে নিম্নোক্ত মন্ত্র পাঠ করবে-
ওঁ ভূতশৃঙ্গাটাচ্ছিরঃ সুষুম্নাপথেনজীবশিবং পরমশিবপদে যোজয়ামি স্বাহা ।।১।।ওঁ যং লিঙ্গশরীরং শোষয় শোষয় স্বাহা ।।২।।ওঁ রং সংঙ্কোচশরীরং দহ দহ স্বাহা ।।৩।।ওঁ পরমশিব সুষুম্নাপথেন মূলশৃঙ্গাটমুল্লসোল্লস জ্বল জ্বল প্রজ্বল প্রজ্বল সোহহং হংসঃ স্বাহা
কৃতাঞ্জলী ( আবাহনী মুদ্রা দ্বারা) ওঁ গনেশাদি নানা দেবতা ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহতিষ্ঠ ইহতিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুধ্যস্ব অত্রাধিষ্ঠানং কুরূ মম পুজা গৃহান ।
এবারে ফুল নিয়ে
এতে গন্ধপুষ্পে শ্রী গুরবে নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে গনেশায় নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে সুর্য্যায় নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে নারায়ণায় নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে শিবায় নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে শ্রী জয় দুর্গায়ৈ নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে ইষ্ট দেবতায়ৈ (দেবী হলে ইষ্ট দেবৌ নমঃ)
গন্ধপুষ্পে আদিত্যাদি-নবগ্রহেভ্যো নমঃ।
ওঁ এতে গন্ধপুষ্পে ইন্দ্রাদি-দশদিকপালেভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে কাল্যাদি-দশমহাবিদ্যাভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে মৎস্যাদি-দশাবতারেভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে সর্বেভ্যো দেবেভ্যো নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে সর্বাভ্যো দেবীভ্যো নমঃ
ঋষ্যাদিন্যাস
ঐং ইত্যস্য মন্ত্রস্য কন্বঋষির্বিরাটগায়েত্রীচ্ছন্দ বাগীশ্বরী দেবতা সর্বাভীষ্ট সিদ্ধয়ে সরস্বতী পুজনে বিনিয়োগ ।
তত্ত্বমুদ্রায় স্পর্শ করবে; মস্তকে- ওঁ কণ্বায় ঋষয়ে নমঃ; মুখে- ওঁ বিরাড্ গায়ত্র্যৈচ্ছন্দসে নমঃ; হৃদয়ে- ওঁ বাগীশ্বর্যৈ দেবতায়ৈঃ নমঃ।
দেবতায়ৈঃ নমঃ।
করন্যাস :-সাং অঙ্গুষ্ঠাভ্যাং নমঃ; সীং তর্জনীভ্যাং স্বাহা; সূং মধ্যমাভ্যাং(বষট্; সৈং অনামিকাভ্যাং হূং; সৌং কনিষ্ঠাভ্যাং বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্
অঙ্গন্যাস – সাং হৃদয়ায় নমঃ; সীং শিরসেস্বাহা;সুং শিখায়ৈ বষট্; সৈং কবচায় হূং; সৌং নেত্রাভ্যাং বৌষট্; সঃ করতল পৃষ্ঠাভ্যাম্ অস্ত্রায় ফট্।
ব্যাপকন্যাস হৃদয় থেকে হাত পা পর্যন্ত আবার পা থেকে হাত হৃদয়ে নিয়ে যাবে তিনবার ।ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ- মন্ত্রে
ধ্যান – ওঁ তরুণশকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ-কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষন্না সিতাব্জে।নিজকরকমলোদ্যল্লেখনীপুস্তকশ্রীঃ সকলবিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগদেবতা নঃ।।।
ধ্যান করে ফুলটি মাথায় রেখে হৃদয়ে সরস্বতী কে চিন্তা করবে
হাতে ফুল নিয়ে
এতে গন্ধপুষ্পে পীঠ দেবতাভ্য নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে পীঠ শক্তিভ্য নমঃ
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ বর্ন কমলাসনায় নমঃ
আবার ধ্যান হাতে ফুল নিয়ে
তরুণশকলমিন্দোর্বিভ্রতী শুভ্রকান্তিঃ-কুচভর-নমিতাঙ্গী সন্নিষন্না সিতাব্জে।নিজকরকমলোদ্যল্লেখনীপুস্তকশ্রীঃ সকলবিভবসিদ্ধ্যৈ পাতু বাগদেবতা নঃ।।।
আবাহন
ওঁ ঐঁ লক্ষ্মী নারায়ণ সহিতে পরিবার সমন্বিতে গন পরিবৃতে সরস্বত্যৈ ইহাগচ্ছ ইহাগচ্ছ ইহতিষ্ঠ ইহতিষ্ঠ ইহ সন্নিধেহি ইহ সন্নিরুধ্যস্ব অত্রাধিষ্ঠানং কুরূ মম পুজা গৃহান।
কৃতাঞ্জলী – ওঁ দেবেশি ভক্তি সুলভে পরিবার সমন্বিত। যাবত্বাং পুজয়িষ্যামি তাবত্বং সুস্থিরাভব।।
‘ প্রতিমায় পুজো হল এবার চক্ষুদানাদি করবে।।
আরও পড়ুনঃ সরস্বতী পুজোকে কেন্দ্র করে এমন ঝামেলা! মধ্য়রাতে ছুটে এলেন খোদ তৃণমূল বিধায়ক
কুশীতে জল লইয়া এতদ পাদ্যম ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
জল শংখে জল চন্দন ফুল আতপচাল বিল্বপত্র দুর্বা লইয়া ইদম অর্ঘ্য ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
কুশীতে জল লইয়া ইদম আচমনীয়োদকম ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
কুশীতে জল লইয়া ইদম স্নানীয়োদকায় ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
চন্দন নিয়ে এষঃ গন্ধঃ ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
অনেক গুলো ফুল নিয়ে এতানি পুষ্পানি ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
তিনটে বেলপাতা পাতা নিয়ে – এতানি সচন্দন বিল্বপত্রানি ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
ধুপ নিয়ে এষঃ ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
এষঃ দীপ ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
যারা নৈবেদ্য নিবেদন যানেন তারা সেই পদ্ধতিতে করবেন সাধারণ ব্যক্তি
ইদং সোপকরন নৈবেদ্যং ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ বলে নৈবেদ্যের ঊপর কোশার জলের ছিটা দেবে
পানার্থ জল এতদ পানার্থোদকম ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ গ্লাসের জলে কোশার জলের ছিটা
কুশীতে জল লইয়া ইদম পুনরাচমনীয়ম ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ
জপ মন্ত্র – ঐং
জপ বিসর্জন গুহ্যাতিগুহ্যগোপ্তী ত্বং গৃহাণাস্মৎকৃতং জপম্ ।সিদ্ধির্ভবতু মে দেবি ত্বৎপ্রসাদাত সুরেশ্বরী ।
পুষ্পাঞ্জলী:- ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।বেদবেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাস্থানেভ্যঃ এব চ।। এষ সচন্দনপুষ্পবিল্বপত্রাঞ্জলিঃ ওঁ ঐং শ্রীসরস্বত্যৈ নমঃ।
প্রনাম:- – ওঁ সরস্বতি মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে। বিশ্বরূপে বিশালাক্ষি বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে।
এবারে নীচের দেবতাদের ফুল দিয়ে পুজো
এতে গন্ধপুষ্পে শ্রী সরস্বতী দেবতায়া ষড়ঙ্গ দেবতাভ্য নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ হংসায় নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ লেখন্যৈ নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ মস্যাধারায় নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ পুস্তকায় নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ বাদ্যযন্ত্রায় নমঃ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ নমো নারায়ণায় নমঃ ।
এতে গন্ধপুষ্পে ওঁ শ্রীং লক্ষ্ম্যৈ নমঃ ।।
এবারে আরতি করবে ।।
শ্রী সরস্বতী স্তত্রম
শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা ।শ্বেতাম্বরধরা নিত্যা শ্বেতগন্ধানুলেপনা ॥ ১॥
শ্বেতাক্ষ সূত্রহস্তা চ শ্বেতচন্দনচর্চিতা ।শ্বেত বীনাধরা শুভ্রা শ্বেতলঙ্কার ভূষিতা। ২॥
বন্দিতা সিদ্ধ গন্ধব্বৈরচ্চিতা। সুরদানবৈঃ। পূজিত মুনিভিঃ সর্ব্বেঋষিভিঃ স্তুয়তে সদা।।৩।।
স্তোত্রেণানেন তাং দেবীং জগদ্ধাত্রীং সরস্বতীম্ ।যে স্মরন্তি ত্রিসন্ধ্যায়াং সর্বাবিদ্যাং তরন্তিতে তে ॥ ৪॥
ইতি শ্রীসরস্বতীস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ।
হাতে জল লইয়া এতদ কর্ম ফলং শ্রীকৃষ্ণার্পিতমস্তু
পরদিন প্রাতঃস্নানাদি নিত্যকৰ্ম্ম করিয়া দেবীর সংক্ষিপ্ত পুজো করবে অতঃপর আরতি করে সংহার মুদ্রায় বিসর্জন করবে ।ওঁ ঐং শ্রীসরস্বতী দেবী ক্ষমস্ব ।।
অতঃপর কৃতাঞ্জলী হয়ে পাঠ করবে গচ্ছ গচ্ছ পরং স্থানং স্বস্থানং পরমেশ্বরি ।পুজাধারন কালে পুনরাগমনায় চ।।
ভুল ত্রুটি মার্জনীয়




