পশ্চিমবঙ্গে পালাবদল ঘটেছে। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠাতা লাভ করে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। ভোটে জিতেই হিংসা বন্ধের বার্তা দিয়েছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে নীচু তলার কর্মীরা সেই বার্তা পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। দিকে দিকে হিংসার ঘটনা ঘটছে। এই আবহে এবার মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে ভাঙা হল লেনিনের মূর্তি। এই ঘটনার ভিডিয়ো এবং ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাতে দেখা যায়, মূর্তিটির প্রথমে মুখের অংশ ভাঙা হয়। পরে গোটা মূর্তিই বেদি থেকে উপড়ে ফেলা হয়।
অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই লেনিনের এই মূর্তিটি ভেঙেছে। সেখানে নতুন করে শিবাজি বা গোপাল পাঁঠার মূর্তি বসানো হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। এদিকে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঘটনার সময় আশপাশে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর রুখতে তৎপরতা দেখা যায়নি। এর আগের দিনই কলকাতার যাদবপুরের ৮বি এলাকায় লেনিনের মূর্তিতে গেরুয়া আবীর দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। এবার জিয়াগঞ্জে ভেঙেই ফেলা হল লেনিনের মূর্তি। এই আবহে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এবার মুর্শিদাবাদ জেলায় ৮টি বিধানসভা আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। এদিকে রাজ্য বিধানসভায় এবার ফের ফিরছে লাল। মুর্শিদাবাদেরই ডোমকল থেকে একটি আসনে সিপিএম এবার জয়ী হয়েছে। সেই ডোমকলে আবার বামকর্মীর গলায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ৫ মে রাতে ডোমকলের যুগিন্দা রথতলা পাড়ায় সিপিএম কর্মী শফিকুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এই ঘটনায় আঙুল উঠেছে তৃণমূলের দিকে। জানা গিয়েছে, শফিকুলের গলায় গুলি লেগেছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে তাঁকে।
আরও পড়ুনঃ ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ
জানা গিয়েছে, ডোমকল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম নিজের পোল্ট্রি ফার্মে কাজ করেন। তিনি এলাকায় বাম কর্মী হিসেবে পরিচিত। কাজ সেরে রাতে তিনি যখন বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় কয়েক জন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। একটি গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। অপর একটি সরাসরি তাঁর গলায় লাগে। গুলির আওয়াজে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ততক্ষণে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায় সেখান থেকে। রক্তাক্ত অবস্থায় শফিকুলকে দ্রুত উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে খবর পেয়ে ডোমকল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। শফিকুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর সিপিএমের তরফে সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।


