বুধবার ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। এখন গোটা রাজ্যে গেরুয়া ঝড়। হেরেছেন রাজ্যের একের পর এক মন্ত্রী। কিছু-কিছু জায়গা বাঁচাতে পেরেছে ঠিকই কিন্তু কয়েকটি জেলায় শূন্য তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারেবারে অভিযোগ করেছিলেন, তাঁকে জোর করে হারানো হয়েছে। প্রায় একশো আসন লঠ করেছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে আগেই দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
এরপর সাংবাদিকরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, আপনি কী রাজভবন যাবেন? তাঁর উত্তর, “কেন যাব রাজভবনে ? আমি যদি শপথ নিতে যেতাম তাহলে যেতাম। ওরা দখল করেছে । ভেবেছে আমি পদত্যাগ করতে যাব ? আমি যাব না আমি কেন যাব ? আমরা ভোট হারিনি। আমি ইস্তফা দেব না।”
আরও পড়ুনঃ লজ্জার হরে ষোলো কলা পূর্ন হয়েছে তৃণমূলের; দল হেরেছে, নিজেও হেরেছেন! ইস্তফা দিতে রাজি নয় মমতা
কংগ্রেস এবং তৃণমূল কী ভবিষ্যতে জোট গড়তে চলেছে ? তিনি বলেন, “আমি কিছু বলব না স্ট্র্যাটেজি নিয়ে।”
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:বেলেঘাটাতে একজনকে মেরে ফেলেছে। মহিলাদের রেপের হুমকি দিচ্ছে। ভুল মেসেজ পৌঁছাচ্ছে বিশ্বের কাছে যে তোমরা গণতান্ত্রিক ভাবে লড়োনি। মা মাটি মানুষ কে ধন্যবাদ । ওনারা ভোট দিয়েছিলেন। আমরা সেই ভোট রক্ষা করতে পারিনি।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:কী চাও তোমরা? শুধু একটি পার্টি ? সারা দেশে একটাই পার্টি থাকবে ?
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:সিআরপিএফ গুণ্ডা র মতো আচরণ করেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী এরকম ব্যবহার করতে পারে, কোনওদিন ভাবতে পারিনি-দেখিনি। এই অত্যাচার যদি চলতে থাকে,তাহলে খুব শীঘ্রই ওদের মুখোশ খুলে যাবে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: যদি আমার পার্টির লোকজনের উপর অত্যাচার করো, তাহলে পরে সেটি ফেরত পাবে। ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও কথা বলার ছিল না। কিন্তু তোমরা জোর করে ক্যাপচার করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:দশ জনের একটা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি করেছি। যারা যেখানে যেখানে সমস্যা হয়েছে যাবে দেখবে। আমার পার্টি হেড কোয়ার্টারে ও হামলা করেছে। আমরা কিছু স্ট্র্যাটেজি নিচ্ছি । সংবাদ মাধ্যম কে জানাচ্ছি না।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি আমাকে পেটে মেরেছে। পিছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। ধাক্কা দিতে দিতে মারতে মারতে বের করেছে। মহিলা হওয়ার পর আমার সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করেছে এবং অত্যাচার করেছে। আমি ঘুরে দাঁড়াব, বাঘের মতো লড়াই করেছি।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: মিডিয়ার একাংশ আগে থেকেই দেখাতে শুরু করেছে আমি পিছিয়ে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমরা যখন জিতেছিলাম আমি বলেছিলাম কারও উপর যেন অত্যাচার না হয়। বদল চাই বদলা নয়।আমরা সিপিএম-এর একটা পার্টি অফিসে হাত দিইনি। অত্যাচার করিনি। আমি রবীন্দ্রসংগীত আর নজরুল গীতি গাইতে দিয়েছিলাম। আর তিনদিন ধরে বিজেপি অত্যাচার করছে। সিআরপিএফ। এটা জওয়ান বাহিনী না বুট বাহিনী…
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ওরা অত্যাচার করছে। এমনকী তফশিলি জাতি উপজাতিদের ছাড়ছে না। ভাঙর থেকে বারাসত, কলকাতা থেকে শুরু করে জঙ্গল মহল — সর্বত্র বিজেপি অত্যাচার করে চলেছে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি এখন পদে নেই । I am now free birds.আমি এক পয়সা বেতন নিইনি। আমি পুরো জীবনটাই মানুষকে উৎসর্গ করেছি।
আরও পড়ুনঃ বদলাচ্ছে বাংলা, বদলে গেল ‘হীরক রানী’র হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: আমি কোনও দিন এই ধরনের নির্বাচন দেখিনি। ২০০৪ সালেও আমি এমন দেখিনি। যখন আমি একা ছিলাম তখনও দেখিনি। সোনিয়া গান্ধী, রাহন গান্ধী, উদ্ধব ঠাকরে, হেমন্ত সোরেন থেকে শুরু করে ইন্ডিয়া জোটের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামিকাল অখিলেশ যাদব আসছেন।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়:আমরা কিন্তু হারিনি। আমাদের ১০০ আসন লুঠ করা হয়েছে। আমাদের লড়তে হয়েছে বিজেপির সঙ্গে নয়। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। ভোটের পরে ইভিএম মেশিন চার্জড। দুটি পর্যায়ে নির্বাচন হওয়ার পরে আমাদের লোকজনকে গ্রেফতার করতে শুরু করে এবং আধিকারিকদের বদলি শুরু করে। নিজেদের পার্টি থেকে আমলা নিয়ে আসে। গট আপ নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির মধ্যম।


