পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন অন্যতম আলোচিত নাম প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক স্বপন দাশগুপ্ত । ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের আবহে তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা— বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কি উঠে আসতে চলেছে স্বপন দাশগুপ্তর নাম?
কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা স্বপন দাশগুপ্ত ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশের মধ্যে বড় হন। দেশের নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করার পর বিদেশেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন তিনি। সাংবাদিকতা দিয়েই কর্মজীবন শুরু, তারপর ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তোলেন।
আরও পড়ুনঃ অভিষেকের কাছে লালবাজার থেকে এল নির্দেশিকা
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। জাতীয় রাজনীতি, হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শ ও ভারতীয় সমাজ নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে। সাংবাদিকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০১৫ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘পদ্মভূষণ’-এ সম্মানিত করা হয়। সেই সম্মান পাওয়ার পর থেকেই জাতীয় স্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ে।
২০১৬ সালে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় প্রবেশ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। এরপর বিজেপির অন্যতম বুদ্ধিজীবী মুখ হিসেবে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়তে থাকে তাঁর। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে লড়লেও জয় পাননি। তবে ২০২৬ সালে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপির হয়ে জয়লাভের পর বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, “ভদ্র, শিক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির” নেতা হিসেবে স্বপন দাশগুপ্তকে সামনে এনে শহুরে ও মধ্যবিত্ত ভোটারদের আরও বেশি আকৃষ্ট করতে চাইছে বিজেপি। যদিও মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করেনি দল।
রাজনীতির পাশাপাশি লেখক হিসেবেও পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত। ভারতীয় রাজনীতি ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে তাঁর একাধিক বই ও লেখা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। পরিবার নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেই পছন্দ করেন তিনি।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর একটাই প্রশ্নে— সাংবাদিকতা ও রাজ্যসভার অভিজ্ঞতার পর এবার কি বাংলার প্রশাসনিক নেতৃত্বেও দেখা যাবে পদ্মভূষণ প্রাপ্ত স্বপন দাশগুপ্তকে?


