তারস্বরে বাজছে ডিজে ৷ দেদার ফাটছে বোম ৷ তার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের সামনেই জেসিবি দিয়ে তৃণমূল কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিল গেরুয়া বাহিনী ৷ মঙ্গলবার রাতে এমনই ঘটনার সাক্ষী নিউ মার্কেট ৷ কলকাতা কর্পোরেশন লাগোয়া তৃণমূলের পার্টি অফিস ও একটি মাংসের দোকান জেসিবি দিয়ে ভেঙে দেয় বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা ৷
শুধু তাই নয়, প্রতিদিনের চেনা ভিড়ও যেন উধাও ৷ অদৃশ্য নির্দেশে যেন হকারমুক্ত হয়ে গিয়েছে নিউ মার্কেটের ভিতরের রাস্তা ৷ যে চত্বরে 365 দিনই থাকে থিকথিকে ভিড় । হকারদের দাপটে কার্যত রাস্তা দিয়ে গাড়ি যাওয়া দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়ার অবস্থাটুকু থাকে না । সেই গোটা নিউ মার্কেট চত্বরে আশপাশের পিছে রাস্তা জ্বলজ্বল করছে । ডালা গুলো বন্ধ রাস্তা ফাঁকা । যেন মনে হচ্ছে দেখে কিছুক্ষণ আগেই হকার উচ্ছেদ পর্ব চলেছে ।
তবে এই বিষয়ে মুখে কুলুপ হকারদের । যেন চাপা আতঙ্ক গ্রাস করেছে । তবে কিছুজনের ইঙ্গিত ও ফিসফিসানিতে বোঝা গেল এই দোকানপাট বন্ধের পিছনে আছে রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের অংক !
রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে সদ্য । আর তারপরেই প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের ছাতার তলায় থাকা হকাররা ভয়ে কাঁটা । রাতারাতি মাথার উপর অভিভাবক হারার মতো শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উবে গিয়েছেন । ফলে অসহায় হকারদের ঝাঁপ আপাতত বন্ধ । প্রকাশ্যে এখনই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চাইছেন না কোনও হকার ।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকারের কথায়, “ফের স্বাভাবিক হবে । আলোচনা হবে বর্তমান শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে । বোঝাপড়ার ঝামেলা মিটলেও পুরোনো চেনা ছবি ফিরবে এই চত্ত্বরে । এদিকে সেই ধুধু ফাঁকা রাস্তা দিয়ে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে বাইক বাহিনী স্লোগান তুলছে জয় শ্রী রাম । অন্যদিকে ডিজে বাজিয়ে হচ্ছে মিছিল ।”
এতকিছুর মধ্যেই কলকাতা কর্পোরেশনের প্রধান দফতরের পিছন দিকে হগ মার্কেটের সামনে রাস্তা দখল করে থাকা লোহা-টিনের কাঠামোতে নীল সাদা রঙের তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের অফিস ভেঙে ফেলেছে গেরুয়া বাহিনী ৷ তবে শুধু পিছনে নয় কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়রের গেটের উল্টো দিকে থাকা টিনের শেড দেওয়া আরেক পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে । না কোনও নেতার দেখা নেই । এক অভিভাবক হারিয়ে নতুন অভিভাবক নির্ধারণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন হকাররা ।
আরও পড়ুনঃ ‘আমরা চাকর ছিলাম’, বিস্ফোরক পাপিয়া
তবে নিউ মার্কেট চত্বরে আশপাশের এই ছবি দেখে দোকানদার থেকে ক্রেতা বিক্রেতা ও পথচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে । নিউ মার্কেটের দোকানদাররা বেজায় খুশি । তাঁদের কথায়, “এইসব হকাররা আমাদের মার্কেটের গেট রাস্তা সব দখল করে রাখে । পিচ রাস্তা দখল করায় গাড়ি ঢুকতে পারে না । ক্রেতারা আসে না । গাড়ি কেউ ঢোকালে নানাভাবে সমস্যা তৈরি করে ।” আবার তাদের অনেকের আশঙ্কা, বর্তমান শাসকদলের নেতাদের সঙ্গে বোঝাপড়া সেরে ফেললেই ফের উপদ্রব শুরু করবে ।
এদিকে অনেক ক্রেতাদের বললেন, “আমরা অবাক । সব সময় জমজমাট থাকে এই এলাকা । সেটা দেখেই অভ্যস্ত । আজ এই ছবি বুঝে উঠতে পারছি না । পথচারীরা আবার অনেকেই খুশি । তাঁদের কথায়, হাতে গোনা হকাররা নিয়ম মেনে লাগায় । বাকিরা যথেচ্ছ রাস্তা, ফুটপাথ নিয়ে বসে । আমরা কোথায় হাঁটাচলা করব তার কোনও জায়গা থাকে না ।”
সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি ৷ কলকাতাতেও ভালো ফল করেছে গেরুয়া শিবির ৷ তারপরই একাধিক জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা সামনে আসছে ৷


