কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণা এখন সময়ের অপেক্ষা । ইতিমধ্যে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল প্রচারের ময়দানে নেমে পড়েছে । তবে এবার উত্তরবঙ্গে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আসন শিলিগুড়ি বিধানসভা নিয়ে জল্পনার শেষ নেই । রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কে ওই আসনের প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে ৷ এরই মাঝে নিজের ওয়ার্ড অর্থাৎ শিলিগুড়ি পুরনিগমের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দেওয়াল লিখন দিয়ে দলের প্রচার শুরু করে দিলেন মেয়র গৌতম দেব ।
আরও পড়ুনঃ বামেদের অন্দরে এখন শুধুমাত্র ফিসফাস; লাল পতাকার গায়ে এখন সন্দেহের শ্বাস ও ত্রাস!
যদিও এর আগেই তিনি শিলিগুড়ি সংলগ্ন ফুলবাড়িতে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে গিয়ে খোলা মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, গত বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসনে বিজেপির কাছে পরাজয়ের পর তিনি এবার নিজের জন্মভূমি শিলিগুড়িতেই ফিরে যাচ্ছেন । আর সেই থেকেই শুরু হয়েছে জল্পনা । সবার মনে একটাই প্রশ্ন দানা বাঁধে ৷ তাহলে কি এবার শিলিগুড়ি আসন থেকে বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মেয়র গৌতম দেব ? এদিন কার্যত সেই জল্পনাই আরও উস্কে দিলেন তিনি । দলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার আগেই বুধবার নিজের জন্মস্থান শিলিগুড়ির ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে দলীয় প্রতীকের দেওয়াল লিখন করেন ।
প্রসঙ্গত, গত বিধানসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি আসনে বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি ভোটে পরাজিত হন গৌতম দেব । তার দিনকয়েকের মধ্যেই তাঁকে শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তারপর পুরনির্বাচনে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হন তিনি । বামেদের দখলে থাকা শিলিগুড়ি পুরনিগম ছিনিয়ে আনার জন্য পরবর্তীতে দল তাঁকে মেয়র ঘোষণা করে ।
আরও পড়ুনঃ বন্ধুর জন্য ‘রেড কার্পেট’! সস্ত্রীক বিমানবন্দরে হাজির নেতানিয়াহু
গৌতম দেব মেয়র হওয়ার পর শিলিগুড়িতে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে কাজ শুরু করেন । আর তাঁর এই মেয়ররের পদকেই কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল । মেয়র হওয়ার সুবাদে দল এবার তাঁকে যে শিলিগুড়ি আসনে প্রার্থী করতে পারে, তা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে । যে কারণে আগেভাগেই প্রচার শুরু করে দিলেন গৌতম দেব ।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “আমি ফলাফলের কথা চিন্তা করি না । জীবনে ন’টি নির্বাচনে লড়াই করেছি । তাতে একটিতে পরাজিত হয়েছি । তবে এবার দল আমাকে প্রার্থী করলে আমি মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে বিধানসভায় যেতে চাই । আমাদের দল সারাবছর মানুষের পাশে থাকে । শিলিগুড়ি পুরনিগমে যা কাজ হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ রূপ ২০২৭ সালে মানুষ বুঝতে পারবে ।”









