অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লেই এবার ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে৷ সম্প্রতি এমনই ঘোষণা করেছেন রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী৷ ধরা পড়ার পর অনুপ্রবেশকারীদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি৷
সেই নির্দেশ অনুযায়ী এবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে প্রশাসনের তরফে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে৷ দার্জিলিংয়ে একটি অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার চিহ্নিত করেছে দার্জিলিং জেলা প্রশাসন৷ অন্যদিকে জলপাইগুড়িতে দু’টি ও কোচবিহারে তিনটি হোল্ডিং চিহ্নিত করা হয়েছে৷

উল্লেখ্য, অনুপ্রবেশকারীদের পুশব্যাকের জন্য রাজ্য সরকার ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ নীতি নিয়েছে৷ সেই নীতি অনুযায়ী, যতক্ষণ না অনুপ্রবেশকারীদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার জন্য জেলায় জেলায় তৈরি করা হবে হোল্ডিং সেন্টার৷ ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জেলায় তা তৈরি করা হয়েছে৷ এবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার প্রশাসনও একই পদক্ষেপ করল৷
আরও পড়ুনঃ আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ শাহের
এই নিয়ে জেলা প্রশাসনের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে৷ সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি মাসের ২ তারিখ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ২৩ তারিখ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভা এলাকার আঠারোখাই কমিউনিটি হল-কে অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের অস্থায়ী হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই নির্দেশিকার অনুলিপি তথ্য ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (দার্জিলিং), পুলিশ সুপার (দার্জিলিং), এসডিপিও (নকশালবাড়ি)-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিডিও এবং পুলিশ স্টেশনগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এই বিষয়ে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিক্কের বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেটিকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি সেটির পরিকাঠামো তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণের কাজ পুলিশ করবে। চিহ্নিত হলে তার পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।”
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক আনন্দময় বর্মন বলেন, “বিগত সরকারের হাত ধরে বহু বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী জেলায় ও শহরে ঢুকে পড়েছে। এরাজ্যের মানুষের অধিকার নষ্ট করেছে। জনবিন্যাস পরিবর্তন করেছে। এবার ডাবল ইঞ্জিন সরকার স্থাপন হওয়ায় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের হোল্ডিং সেন্টারে রেখে তাদের দেশ থেকে বের করা হবে।”
আরও পড়ুনঃ ব্রিগেডেই ইদের নমাজ, রেড রোডে নয়; ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী কলকাতা
প্রশাসন সূত্রে খবর, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধভাবে বসবাসকারী বা অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সেই কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট ও দার্জিলিং জেলা পুলিশ। শনাক্ত হওয়াদের প্রাথমিকভাবে ওই আঠারোখাই কমিউনিটি হলে নিয়ে আসা হবে। সেখানে তাদের নথিপত্র যাচাই-সহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে বিএসএফ-এর আধিকারিকদের সঙ্গেও প্রাথমিক আলোচনা সেরেছে জেলা প্রশাসন।
আঠারোখাই কমিউনিটি হলটিতে প্রশাসনিক কাজ, নথিপত্র যাচাইকরণ এবং নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এলাকার এই কেন্দ্রটি থেকে পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় সাধন করা হবে। প্রশাসনের লক্ষ্য হল, অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও নিয়মমাফিক করা। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও ধরনের আইনি জটিলতা ছাড়াই অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেখানে জেলা প্রশাসনের তরফে শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক ও কমিশনারেটের তরফে একজন এসিপি পদমর্যাদার আধিকারিক নিযুক্ত করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের সেখানে আনা হলে রাখা হবে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায়।

শিলিগুড়ির আশেপাশে রয়েছে ইন্দো-বাংলাদেশ ও ইন্দো-নেপালের মতো আন্তর্জাতিক সীমান্ত। যে কারণে ওই এলাকা দিয়েই শিলিগুড়িতে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা সব থেকে বেশি রয়েছে। শিলিগুড়িকে করিডর করে অনুপ্রবেশকারীরা উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে৷
জেলায় দু’টি হোল্ডিং সেন্টার চালু করতে চলেছে জেলা প্রশাসন। একটি হোল্ডিং সেন্টার জলপাইগুড়ির জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুর পুরাতন বাজার কমপ্লেক্স, অন্যটি সদর ব্লকের রাজবাড়ি পাড়ার আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রকে চিহ্নিতকরণ করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে ৪৫ কিলোমিটার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তার জন্য বিএসএফ-এর চারটি ব্যাটালিয়ন কাজ করছে। খোলা সীমান্ত দিয়েই বাংলাদেশের নাগরিকরা ভারতে প্রবেশ করে, এমনটাই অভিযোগ।
ভারতে ঢুকতে গিয়ে বিএসএফ বা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে অনুপ্রবেশকারীরা। ধরা পড়লে তাদের আদালতে তোলা হয়।অনুপ্রবেশ আইন অনুযায়ী অনুপ্রবেশকারীদের ঠাঁই হয় জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। সাজার মেয়াদ শেষের পর বাংলাদেশের ফেরাতে অনেকটা আইনের বেড়াজালে পড়তে হয় ভারত সরকারকে। কারণ, যারা ভারত ঢোকে, তাদের কাছে বাংলাদেশের কোনও নথি না থাকার কারণে অনেক সময় বাংলাদেশ সরকার তাদের নাগরিক বলে মেনে নেয় না। এবার থেকে সেটা আর হবে না। বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীদের ধরেই তাদের হোল্ডিং সেন্টার রেখে পুশব্যাক করবে সরকার।

সীমান্ত এলাকায় থেকে এই দু’টো হোল্ডিং সেন্টার কাছাকাছি রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে রাজগঞ্জ সদর ব্লকে। জলপাইগুড়ির জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের ফাটাপুকুর পুরাতন বাজার কমপ্লেক্স অন্যটি সদর ব্লকের রাজবাড়ি পাড়ার আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের হোল্ডিং সেন্টারে এখনও কাউকে রাখা হয়নি।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক সন্দীপ কুমার ঘোষ জানিয়েছেন, হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা মেনেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।



