আফগান তালিবানের ডেপুটি প্রধান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের শীর্ষ নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। তিনি সরাসরি বলেছেন, যদি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় তাহলে পাকিস্তানের অস্তিত্বই প্রশ্নের মুখে পড়বে। এই ভাষা কূটনৈতিক নয়, সরাসরি সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কাবুল–ইসলামাবাদ সম্পর্ক দ্রুত খারাপ হয়েছে। সীমান্তে গোলাগুলি, টি টি পি ইস্যু, ডুরান্ড লাইনের বৈধতা নিয়ে বিরোধ — সব মিলিয়ে অবিশ্বাস এখন প্রকাশ্য শত্রুতায় রূপ নিচ্ছে। পাকিস্তান যে বহু বছর তালিবানকে “স্ট্র্যাটেজিক ডেপথ” হিসেবে ব্যবহার করেছিল, সেই নীতিই এখন উল্টো চাপ হয়ে ফিরে আসছে।
হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঐতিহাসিকভাবে আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ছিল। আজ সেই সংগঠনের শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে হুমকি দিচ্ছে — এটা অঞ্চলের জিওপলিটিক্সে বড় পরিবর্তনের সংকেত। এর মানে তালিবান এখন সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দেখাতে চাইছে।
এই পরিস্থিতি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য গুরুতর। পশ্চিম সীমান্তে চাপ বাড়লে তাদের সামরিক ফোকাস ভাগ হয়ে যাবে, যা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তৈরি করে। একই সঙ্গে আফগানিস্তান–পাকিস্তান সংঘাত বাড়লে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে — আর পাকিস্তানের পুরনো প্রক্সি নীতির ফল এখন তাদের নিজেদের দোরগোড়ায় ফিরে এসেছে।









