কুশল দাশদুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
বিধানসভা ভোটের আগে পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন বার্তা। দীর্ঘদিনের ‘স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান’-এর দাবির পাশাপাশিই এ বার জোরালো হল বাদ পড়া জনজাতিদের ষষ্ঠ তফসিলের স্বীকৃতির প্রশ্ন । বাংলা-সিকিম সীমান্তের রংপো হকি ময়দান থেকে একসঙ্গে লড়াইয়ের ডাক দিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং । মঞ্চে ছিলেন দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তাও । পাহাড়ের দাবিকে ঘিরে দুই রাজ্যের এই প্রকাশ্য ঐক্য রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে ।
আরও পড়ুনঃ বড় খবর! পাক পারমানবিক কেন্দ্রে তালিবান ড্রোন হামলা
দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের ১১ টি এবং সিকিমের ১২টি জনজাতিকে কেন্দ্রীয় ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় আনার দাবি বহু পুরনো । ২০০২ সালে লেপচা, ভুটিয়া ও তামাং সম্প্রদায় স্বীকৃতি পেলেও ভুজেল, গুরুং, মাঙ্গার, নেওয়ার, জোগি, খাস, রাই, সুনোয়ার, থামি, ইয়াক্কা/দেওয়ান ও ধিমাল—এই ১১ জনজাতি তালিকার বাইরে থেকে যায় । সিকিমে একই ভাবে মাঝি-সহ কয়েকটি গোষ্ঠী অন্তর্ভুক্ত হয়নি । সেই বঞ্চনার অভিযোগই আবার উচ্চারিত হল রংপোর সভামঞ্চে ।
তামাং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এটা শুধু সিকিমের সমস্যা নয়, বাংলারও । তাই একসঙ্গে লড়াই করতে হবে ।” তিনি জানান, ২০১২ ও ২০২৭ সালে দুই রাজ্যই রেজিস্ট্রার জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট পাঠিয়েছিল । কিন্তু দু’বারই তা খারিজ হয় । কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের যুক্তি ছিল, এই স্বীকৃতি দিলে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনুপ্রবেশ বাড়তে পারে এবং সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলির ‘আদিম সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য’র পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি ।
আরও পড়ুনঃ ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ বাড়ি; ভোটার লিস্ট বেরোনোর আগেই ভূমিকম্প রাজ্যে
পালাবদলের পরে ফের সক্রিয় হয়েছে দুই সরকার । বিধানসভায় প্রস্তাব পাশ করে কেন্দ্রকে পুনরায় রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে । তামাং জানান, এ বার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে । প্রাক্তন রেজিস্ট্রার জেনারেল স্তরের আধিকারিক থেকে শুরু করে শীর্ষ আমলারা থাকবেন সেই কমিটিতে । নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে রিপোর্ট দেওয়া হবে । তাঁর বক্তব্য, “এ ভাবে আর চলতে পারে না ।”
রাজু বিস্তার দাবি, তিনি নিজে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি তুলেছেন । তাঁর কথায়, ” আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে ৷” যদিও ২০১৯ ও ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ইস্তেহারে প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় পাহাড়ে সংশয় কাটেনি ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে পাহাড়ের জনজাতি উন্নয়নে ১৬টি বোর্ড গঠন করেছিল রাজ্য সরকার, বছরে প্রতিটি বোর্ডে বরাদ্দ দু’কোটি টাকা । অভিযোগ, উন্নয়নের খতিয়ান থাকলেও স্বীকৃতির প্রশ্নে অচলাবস্থা রয়ে গিয়েছে । ভোটের মুখে রংপো থেকে উঠল ‘যৌথ ফ্রন্ট’-এর ডাক—এ বার পাহাড়ের দীর্ঘদিনের দাবি কি সত্যিই নতুন মোড় নেবে? নজর এখন সেদিকেই ।









