মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। সোমবার ইরান, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে চরম অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। একদিকে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা, অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ খেলা গেল ঘুরে; পাকিস্তানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ইরানের
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বৈরুতের দাহিয়াহ এলাকায় নতুন করে উচ্ছেদ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তিন ঘণ্টার মধ্যে এটি দ্বিতীয় সতর্কতা। হিজবুল্লাহর মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ‘আল মানার’-এর দফতরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ‘তৃতীয় তরঙ্গ’ সফলভাবে রুখে দিয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দুবাইয়ের আবাসিক এলাকায় পড়ায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। চরম নিরাপত্তার স্বার্থে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (DXB) এবং দুবাই ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল (DWC) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
দুবাইয়ে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। আবুধাবি থেকে ইতিহাদ এয়ারওয়েজের বিশেষ বিমানে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।তেহরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আরও পড়ুনঃ ইরানের হামলায় কেঁপে উঠেছে সবচেয়ে ‘নিরাপদ’ শহর দুবাই
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটির কাছে পাঁচটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের সতর্ক থাকতে ও নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। ভ্যান্সের কথায়, “প্রেসিডেন্ট নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন যাতে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র হাতে না পায়। তবে আমরা ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো লক্ষ্যহীন কোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে জড়াতে চাই না।”
এই হামলায় তিন প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে কথা বলে ভারতের সংহতির কথা জানিয়েছেন এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন।









