ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা যুদ্ধের আবহেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সঙ্কটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম থেকে শুরু করে ডলারের বিপরীতে রুপির দুর্বলতা ভারতীয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এদিকে, সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোজ্যতেলের দামের ওপরেও। গত কয়েকদিনে, ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৫ টাকা (প্রায় ৫ শতাংশ) বেড়েছে। বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা সাপ্লাই চেনকে ব্যাহত করেছে। যার ফলে পণ্য পরিবহণের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফলস্বরূপ, সূর্যমুখী থেকে শুরু করে সয়াবিন, পাম তেল এবং মিশ্র তেল তথা ব্লেন্ডেড তেলের দাম তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ! খাস কলকাতায় টানা ২ মাস সব ধরনের জমায়েত-বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা
বিদেশি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মুদ্রা বাজারে রুপির দুর্বলতার কারণে আমদানি খরচ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে, ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে বলছেন যে, সরবরাহের উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। মূলত, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক রুটে ঝুঁকি বেড়েছে। যার ফলে পণ্য পরিবহণের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুদ্রাস্ফীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সূর্যমুখী এবং সয়াবিন তেল। এমতাবস্থায়, মধ্যবিত্তদের পকেটে পড়েছে টান।
উল্লেখ্য যে, ভারতে বিপুল পরিমাণে ভোজ্যতেলের ব্যবহার হলেও দেশীয় উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। উদাহরণস্বরূপ, কর্ণাটক সূর্যমুখী তেলের বৃহত্তম উৎপাদক। মহারাষ্ট্র এবং অন্ধ্র প্রদেশও বিপুল উৎপাদন হয়। তবে, দেশের মোট চাহিদা মেটাতে এই উৎপাদন অপর্যাপ্ত। এই কারণেই ভারত তার চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইউক্রেন থেকে শুরু করে রাশিয়া, বুলগেরিয়া এবং আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলি থেকে আমদানি করে। তবে, বর্তমান যুদ্ধের পরিস্থিতি ওই দেশগুলি থেকে আমদানিতে বাধা সৃষ্টি করেছে। এদিকে, বিদেশ থেকে পণ্য আসার ক্ষেত্রে ব্যাঘাত ঘটলে তখন অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ ধূপগুড়িতে চাঞ্চল্য! ট্র্যাফিক পুলিশের বুথে উঁকি দিয়েই শিউরে উঠলেন সবাই
এই মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব ইতিমধ্যেই বাজারে সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান। দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলির, বিশেষ করে কেরালার পরে, সূর্যমুখী তেলের দাম অন্যত্রও তীব্রভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে, বেঙ্গালুরুতে খুচরো বাজারে সূর্যমুখী তেল প্রতি লিটার ১৬১ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু আজ তা ১৬৫ টাকায় পৌঁছেছে।
সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই বৃদ্ধি কেবল একটি কোম্পানির পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং, বাজারে সমস্ত ব্র্যান্ডের তেল ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। সূর্যমুখী এবং রাইস ব্র্যানের মতো তেল মিশিয়ে তৈরি ব্লেন্ডেড তেলের দামেও প্রভাব পড়েছে। সাফোলা গোল্ডের মতো জনপ্রিয় ব্লেন্ডেড তেলের দামও বেড়েছে। এমতাবস্থায় সামগ্রিকভাবে, বাজার বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি পরিস্থিতির শীঘ্রই উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে আগামী দিনে সূর্যমুখী এবং ব্লেন্ডেড তেলের দাম প্রতি লিটারে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে, দেশের সাধারণ মানুষ যে আরও প্রভাবিত হবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।









