কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব গোটা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভারতেও এর প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই আগেভাগেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হঠাৎই ফের লাগু করা হয়েছে পুরনো নির্দেশিকা। এখন থেকে ২১ দিনের আগে নতুন করে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ এক গ্রাহক ২১ দিনে একটির বেশি রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন না। পোট্রোপণ্য মন্ত্রকের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেই সূত্রের খবর।
আরও পড়ুনঃ নেপালের নির্বাচনে Gen Z সুনামি; কুর্সিতে তরুণ ব্রিগেডের নেতা বলেন্দ্র
ডিস্ট্রিবিউটরদের মতে, বর্তমানে তাঁদের হাতে মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের মতো গ্যাসের স্টক রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা আপাতত স্বাভাবিক রাখতে এই নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বহু জাহাজ আটকে পড়েছে বলে খবর। এই প্রণালী দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে ওই পথ বাধাপ্রাপ্ত হলে তার প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ভারতের জ্বালানি সরবরাহেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি, উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। জানানো হয়েছে, যাঁরা এখনও বায়োমেট্রিক KYC সম্পূর্ণ করেননি, তাঁরা আপাতত নতুন করে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করতে পারবেন না। সরকারের মতে, গ্রাহক তথ্য যাচাই এবং সঠিকভাবে ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের ফলে বহু গ্রাহকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকেই এখনও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেননি।
আরও পড়ুনঃ ‘বড় আঘাত’! ব্রিটিশ ঘাঁটিতে মার্কিন B-2 স্টিলথ বোমারু মোতায়েন
ডিস্ট্রিবিউটরদের আরও আশঙ্কা, নতুন গ্যাসের স্টক দ্রুত না এলে বাণিজ্যিক গ্যাসের ক্ষেত্রেও সংকট দেখা দিতে পারে। হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ছোট ব্যবসায়ীরা মূলত বাণিজ্যিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। তাই সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটলে তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রেও। বর্তমানে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।
তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ নিয়ে বড় কোনও সমস্যা নেই। দেশজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে। যদিও রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তবুও সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে এবং নতুন স্টক আসার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে সূত্রের খবর।









