পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। তার জেরে হোমরুজ প্রণালী রুদ্ধ হওয়ায় বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি ঘিরে তুমুুল সংকট। ভারতে এলপিজি গ্যাসের দাম ইতিমধ্যেই হু হু করে বেড়ে গিয়েছে। তার হাত ধরে কার্যত বিপুল ধাক্কা খেয়েছে রেস্তোরাঁর ব্যবসা। এদিকে, এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়া ও এলপিজি সরবরাহ ঘিরে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জেরে ভারতীয় রেলের ক্যাটেরিংও বড়সড় ধাক্কার মুখে। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, এবার থেকে হয়তো দূরপাল্লার সফরে রেলের ক্যাটেরিংএর খাবার নাও পেতে পারেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ পরিস্থিতি আয়ত্তেই! আর্জি অপচয় বন্ধের, গ্যাস বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যে সিলিন্ডার মিলবে
এবার দূরপাল্লার সফরে গেলে, সঙ্গে বাড়ির তৈরি খাবার রাখা জরুরি! অন্তত রিপোর্ট তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এযাবৎকালে বিভিন্ন দূরপাল্লার ট্রেনে রেলের ক্যাটেরিং খাবার সরবরাহ করেছে যাত্রীদের। তবে, ইরান যুদ্ধের মাঝে এলপিজির কমতি থাকায়, রেলের আইআরসিটিসির রান্নাঘরেও তার প্রভাব পড়তে পারে, বলে রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এক সিনিয়র অফিসারকে উল্লেখ করে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট বলছে, ‘পরিস্থিতি বেশ সিরিয়াস হয়ে উঠেছে। আর কয়েকদিনে তা আরও কঠিন দিকে যেতে পারে। ট্রেনের ক্যাটেরিং সার্ভিস নির্ভর করে, আইআরসিটিসির রান্নাঘরে যে খাবার তৈরি হয়, তার ওপর।এলপিজি প্রাপ্তিতে যদি ছেদ পড়ে তাহলে খাবার তৈরি এবং তা ট্রেনে সরবরাহের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।’
আরও পড়ুনঃ ২৫ হাজার টাকা বেতন; উত্তর দিনাজপুরের স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মী নিয়োগ
আইআরসিটিসির যে ‘বেস কিচেন’ বা রান্নাঘর রয়েছে, তাতে ইতিমধ্যেই প্রভাব ফেলতে শুরু করে দিয়েছে এলপিজির ঘাটতি। উল্লেখ্য, এই রেলের রান্নাঘরগুলিতেই খাবার তৈরির পর তা ট্রেনে প্যান্ট্রিতে সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ‘ রেলওয়ে ক্যাটেরিং অ্যান্ড টুরিজম কর্পোরেশন’ বা আইআরসিটিসি প্রতিদিন প্রায় ১৭ লাখ ‘মিল’ (খাবার) তৈরি করে থাকে। আর সেই বিপুল পরিমাণের খাবার সরবরাহের নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা দিতে পারে পশ্চিম এশিয়ায় ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল ও আমেরিকার সংঘাত।
ইতিমধ্যেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান ফেলে, অটোর ভাড়া বেড়েছে। রকেট গতিতে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশ চিন্তায় সাধারণ মানুষ। যাঁরা খাবার বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাঁদের ব্যবসা ঘিরে বেশ চিন্তা। এদিকে, কবে যুদ্ধ বন্ধ হবে, তার দিকে, তাকিয়ে বিশ্ব। অন্যদিকে, বলা হচ্ছে, যদি যুদ্ধঘ এভাবে চলতে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহে জ্বালানি তেলের দাম ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রতি ব্যারলে পৌঁছে যাবে। এই অবস্থা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হবে, তা প্রশ্নের মুখে।









