২০২৬-এর নির্বাচনের আগে ইস্তাহার প্রকাশ তৃণমূল-কংগ্রেসের। প্রতিজ্ঞা নামে ভোটের ইস্তাহার প্রকাশ করা হয়েছে। ইস্তাহারে ১০টি অঙ্গীকারের উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা, শিল্প, চাকরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আবাস, লক্ষ্মী থেকে বেকার ভাতা… সামাজিক প্রকল্পে জোর দেওয়া হয়েছে। ইস্তাহার থেকে নতুন প্রকল্পেরও ঘোষণা করা হয়েছে। দুয়ারে সরকারের পাশাপাশি এবার থেকে দুয়ারে চিকিৎসা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, প্রতি বছর প্রতি ব্লকে প্রতি টাউনে দুয়ারে স্বাস্থ্য হবে। তৃণমূলের দশ প্রতিজ্ঞার মধ্যে প্রবীণদের জন্যও বিশেষ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ আবারও কি ‘ঐতিহাসিক ভুল’-র পথে CPI(M)! কালীগঞ্জ কাণ্ডে সাত জনকে বহিষ্কার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এই নতুন প্রতিশ্রুতির প্যাকেজ।
‘দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা—এক নজরে’
- ১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
সাধারণ মহিলাদের মাসিক ভাতা এখন বেড়ে মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি/জনজাতির মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা করা হয়েছে। - ২. বাংলার যুব-সাথী প্রকল্প
২১–৪০ বছর বয়সি বেকার যুবক-যুবতীদের ৫ বছর ধরে মাসে ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা। - ৩. ৩০ হাজার কোটি টাকার কৃষি বাজেট
কৃষকদের আয় বাড়াতে পৃথক কৃষি বাজেট ঘোষণা। - ৪. প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জল
পাইপলাইনের মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। - ৫. সকলের জন্য পাকা বাড়ি
আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য। - ৬. দুয়ারে চিকিৎসা আরও জোরদার
ব্লক ও টাউন স্তরে প্রতি বছর স্বাস্থ্য শিবির আয়োজন। - ৭. সরকারি স্কুলে পরিকাঠামো উন্নয়ন
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা। - ৮. প্রবীণদের ভাতা চালু রাখা
বয়স্কদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি। - ৯. নতুন জেলা গঠন
প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ৭টি নতুন জেলা তৈরি। - ১০. পৌর পরিষেবা সম্প্রসারণ
শহরাঞ্চলে আরও উন্নত পরিষেবা দিতে পৌরসভার সংখ্যা বাড়ানো।
তৃণমূলের ইস্তেহারে দাবি করা হয়েছে—১.৭২ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার বাইরে আনা হয়েছে। রাজ্যে ২ কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং বাংলা বেকারত্ব ৪০% কমেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি করেছে শাসকদল।
আরও পড়ুনঃ নেটদুনিয়ায় মহাবিপর্যয়! ইন্টারনেট দুনিয়ায় বিস্ফোরণ
ইস্তাহারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে—১০০ দিনের কাজে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। আবাস যোজনায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, এই অর্থ না পাওয়ায় রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তৃণমূল ইস্তেহারে জানিয়েছে—আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ৫ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। গ্লোবাল ট্রেড হাব, বন্দর, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সম্ভবত ইস্তেহারে এসব ঢুকিয়েছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।
এ ছাড়া প্রশাসনিক বিষয়ে ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ঘোষণা করা হয়েছে ইস্তেহারে। বলা হয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। বকেয়া ডিএ বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হবে।
সব মিলিয়ে, নারী–যুব–কৃষক—সব স্তরের ভোটারকে লক্ষ্য করে তৈরি এই ইস্তাহারই আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




