কলকাতার রাজনৈতিক মহলে এখনও চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনা। ৬ মে মধ্যমগ্রামে রাতের বেলা ঘটে যাওয়া এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। এবার তদন্তে বড় সূত্র হিসেবে উঠে এসেছে একটি UPI পেমেন্ট। বালি টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য ধরে খুনিদের খোঁজে আরও দ্রুত এগোতে চাইছেন তদন্তকারীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের আগে যে সিলভার রঙের নিসান মাইক্রা গাড়িটি তাঁর পথ আটকে দিয়েছিল, সেই গাড়িটি ঘটনার কিছুক্ষণ আগেই বালির নিবেদিতা টোলপ্লাজা পার হয়েছিল। টোল পার হওয়ার সময় নগদের বদলে UPI মাধ্যমে টাকা দেওয়া হয়েছিল। আর সেই ডিজিটাল পেমেন্টই এখন তদন্তকারীদের হাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ ‘রাস্তায় নামুন, আমরা….’, মমতার হাত মেলানোর প্রস্তাব শুনেই সরাসরি বার্তা
তদন্তকারীরা ইতিমধ্যেই টোলপ্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। কোন মোবাইল নম্বর বা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টোলের টাকা পাঠানো হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার নামে অ্যাকাউন্ট, কোথা থেকে পেমেন্ট করা হয়েছে, ঘটনার আগে বা পরে ওই অ্যাকাউন্টে কোনও অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই ডিজিটাল ট্রেইল ধরেই আততায়ীদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।
এই খুনের ঘটনায় শুরু থেকেই পরিকল্পিত অপরাধের ইঙ্গিত মিলেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন দুইটি বাইক এবং একটি গাড়িতে করে এসেছিল আততায়ীরা। মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকার কাছে আচমকা পিছন থেকে এসে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির পথ আটকে দেয় একটি নিসান মাইক্রা। তারপর মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় হামলা। প্রথমে গাড়ির কাচ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পরে জানলার ফাঁক দিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে নিশ্চিত করা হয় চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু।
ঘটনায় গুরুতর আহত হন গাড়ির চালকও। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, চন্দ্রনাথ রথকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার নৃশংসতা দেখে তদন্তকারীদেরও ধারণা, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত টার্গেট কিলিং।
আরও পড়ুনঃ ‘তোলা বন্ধ, ভাড়াও বন্ধ’, ঝাঁপ বন্ধ জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল জেলা কার্যালয়ের
খুনের পর আততায়ীরা ঘটনাস্থলেই গাড়ি ফেলে বাইকে করে পালিয়ে যায়। পরে এয়ারপোর্ট সংলগ্ন একটি পাঁচিলঘেরা এলাকা থেকে একটি বাইক উদ্ধার হয়। এরপর আরও একটি বাইক উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে জানা যায়, খুনে ব্যবহৃত গাড়ি ও বাইকের নম্বর প্লেট ভুয়ো ছিল। শুধু তাই নয়, গাড়ি ও বাইকের চেসিস নম্বরও ঘষে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যাতে সহজে শনাক্ত করা না যায়।
পুলিশের অনুমান, অপরাধীরা অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় কাজ করেছে এবং তদন্তকে বিভ্রান্ত করতেই আগেভাগে সমস্ত পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।


