“এটা কি শুধু খুন?”—একজন সাংগঠনিক মস্তিষ্কের মৃত্যু, আর বাংলার ক্ষমতার অন্ধকার ভিতরকার আশঙ্কা
অনেকেই ঘটনাটাকে শুধুই একজন রাজনৈতিক সহায়কের মৃত্যু হিসেবে দেখছেন।
কিন্তু বিজেপির ভেতরের বহু মানুষ বিষয়টাকে এত সরলভাবে দেখছেন না।
কারণ চন্দ্রনাথ শুধু “পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট” ছিলেন না—তিনি শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অপারেশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্রেইন ছিলেন।
আরও পড়ুনঃ অনেক গুলো প্রশ্ন, এই মুহূর্তে কন্সপিরেন্সি থিওরি
গ্রাউন্ড কো-অর্ডিনেশন,
মিনিট-টু-মিনিট প্ল্যানিং,
কার সঙ্গে কোথায় যোগাযোগ,
কোন লেয়ারে কী তথ্য জমা হচ্ছে—এই পুরো সিস্টেমের সঙ্গে তিনি গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন।
বিজেপির অনেকের বিশ্বাস,
শুভেন্দুর সাম্প্রতিক সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী মোমেন্টামের পিছনে চন্দ্রনাথের মতো কয়েকজন অত্যন্ত পরিশ্রমী, লো-প্রোফাইল কিন্তু ভয়ংকর দক্ষ ছেলের বিশাল ভূমিকা ছিল।
এই কারণেই তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে এত জল্পনা তৈরি হচ্ছে।
একটা থিওরি এখন বিজেপির একাংশের মধ্যে ঘুরছে—এই ঘটনা হয়তো শুধুই ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিচ্ছিন্ন ক্রাইম না।
অনেকের ধারণা,
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা রাজনৈতিক-অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সিস্টেমের ভেতরে এমন কিছু স্তর তৈরি হয়েছে,
যেগুলো নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য নিজেরাই রিঅ্যাক্ট করতে পারে।
অর্থাৎ সরাসরি নির্দেশ থাকুক বা না থাকুক—সিস্টেম নিজেই “সেল্ফ-প্রোটেকশন মোড”-এ চলে যেতে পারে।
আরও পড়ুনঃ ‘সব ফাইল খোলাব’, হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
কারণ ভয়টা কোথায়?
ভয়টা হলো—চন্দ্রনাথের কাছে নাকি এমন কিছু সেনসিটিভ অপারেশনাল ইনফর্মেশন ছিল,
যেগুলো নতুন সরকার আসার পর এক্সিকিউট বা এক্সপোজ করা হলে এই রাজ্যের বহুদিনের জমে থাকা নেটওয়ার্ক, গভীর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ নেক্সাস, রাজনৈতিক প্রোটেকশন স্ট্রাকচার—সবকিছু বড় ধাক্কা খেতে পারত। আর এখানেই ঘটনাটা সাধারণ রাজনীতির বাইরে চলে যায়। কারণ যখন কোনো রাজনৈতিক ইকোসিস্টেম এত বড় হয়ে যায় যে তার সঙ্গে ক্ষমতা, টাকা, প্রশাসন, প্রোটেকশন— সব একসাথে জড়িয়ে পড়ে, তখন সেই ইকোসিস্টেম নিজের একটা সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট তৈরি করে ফেলে। এই থিওরি সত্যি না মিথ্যা—সেটা তদন্তই বলবে।
কিন্তু একটা জিনিস স্পষ্ট—বাংলার রাজনীতি এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে একটি রহস্যমৃত্যুকেও মানুষ আর সরলভাবে নিতে পারছে না।
আর সেটাই হয়তো সবচেয়ে বড় সংকেত।


