উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে বুধবার রাতের এক দুঃসাহসিক গুলিকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় বাইকে করে এসে দুষ্কৃতীরা বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীকে লক্ষ্য করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটে রাতের দিকে, যখন এলাকায় স্বাভাবিক চলাচল ছিল। হঠাৎই বাইকে করে কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে ওই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় একদিনে জন্য চালু হবে রাষ্ট্রপতি শাসন!
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যেই আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে এবং দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফরেন্সিক টিমও ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক নমুনা সংগ্রহ করেছে।পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই হামলা পরিকল্পিত হতে পারে। ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনও কারণ সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পর রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা ক্রমশ বাড়ছে এবং প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে শাসকদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্ত চলার আগে রাজনৈতিক রং না দেওয়াই উচিত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। হঠাৎ করে প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কিত। অনেকেই নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনা নয়, বরং এর প্রভাব রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশেও পড়তে পারে। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুনঃ বেনোজল রুখতে মরিয়া পদ্মফুল শিবির; বাম, তৃণমূল হয়ে এবার রামের দরজায় মিরজাফরের দল!
সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “দুঃখজনক। খুবই দুঃখজনক ঘটনা। খুবই নিন্দনীয়। নিন্দার কোনও ভাষা নেই। একজন যুবককে খুন করা হল। তিনি শুভেন্দুবাবুর আপ্ত সহায়কের কাজ করতেন। সে কারণেই এইভাবে তাকে খুন করতে হবে ? যেখানে, যেভাবে এবং যে সময়টায় ঘটনাটা ঘটছে তা থেকে স্পষ্ট পরিকল্পনা করেই সবটা করা হয়েছে । নেপথ্যে গভীর চক্রান্ত আছে। যেটুকু তথ্য পাওয়া গিয়েছে তার ভিত্তিতে বলা যায়, ফলো করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়েছে। পরিকল্পনামাফিক চক্রান্ত করেই এই খুন। ঘটনার নেপথ্যে কী কী কারণ আছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। অপরাধীদের অবশ্যই যথাযথ শাস্তি পাওয়া উচিত। এই ধরনের ঘটনা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। ভোট হয়ে গেলেই খুনোখুনির রাজনীতি শুরু হয়ে যাবে ! আগেও আমরা এই ধরনের ঘটনা দেখেছি। তৃণমূলের আমলে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এখন সেই ঘটনা আবারও ঘটছে। বাংলাকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তোলা হচ্ছে।”

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেন, “শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুন করার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরবর্তী সময়ে যে রক্তের হোলি খেলা চলছে তা অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের আইন শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন । তাই এই অগ্নিগর্ভ এবং অশান্ত পরিবেশের দায় কমিশন এড়িয়ে যেতে পারে না।”

তাঁর কথায়, “আমরা মনে করি নির্বাচনে মানুষের রায় প্রতিফলিত হয় । কিন্তু এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তাতে প্রকারান্তরে মানুষের রায়কেই অসম্মান করা হচ্ছে । গুরুত্বহীন করে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় কংগ্রেস সবসময় শান্তি – অহিংসার আদর্শে বিশ্বাসী। সেই বিচারধারার প্রতি সম্মান জানিয়ে আমরা এই রাজ্যে অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিটি স্থানে সর্বদলীয় শান্তি বৈঠক অনুষ্ঠিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”


