“তৃণমূল গেলেই কি বামেরা ফিরবে?”—পশ্চিমবঙ্গের বদলে যাওয়া সমাজ, ভেঙে যাওয়া শ্রেণী রাজনীতি, আর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা
এখন একটা কথা খুব বেশি শোনা যাচ্ছে—
“তৃণমূল দুর্বল হলে বা ক্ষমতা হারালে, বিরোধী হিসেবে আবার বামেরাই উঠে আসবে”
শুনতে যুক্তিসঙ্গত লাগে।
কারণ বাংলার মানুষ বহু দশক বাম রাজনীতি দেখেছে।
সংগঠন দেখেছে।
ক্যাডার স্ট্রাকচার দেখেছে।
গ্রামভিত্তিক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণও দেখেছে।
আরও পড়ুনঃ সাঁড়াশি চাপে তৃণমূল, তৃণমূলের জন্য সামনে আরও কঠিন সময়!
তাই অনেকেই ভাবছেন—
তৃণমূলের পতনের পর সেই পুরনো শূন্যস্থান আবার সিপিএম তথা বামেরা পূরণ করবে।
কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এত সরল না।
কারণ একটা রাজনৈতিক শক্তি শুধু ভোটে হেরে শেষ হয় না—
আবার শুধু প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেই ফিরেও আসে না।
রাজনীতির পিছনে সমাজ বদলায়,
অর্থনীতি বদলায়,
মানুষের মানসিকতা বদলায়,
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
সময়ের global ideological climate বদলায়।
আর এখানেই বর্তমান বাংলার বাস্তবতা আগের বাংলা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
বাম রাজনীতির উত্থান শুধু বাংলার ঘটনা ছিল না—একটা global wave ছিল
বাংলায় বাম রাজনীতি যেভাবে একসময় শক্তিশালী হয়েছিল,
সেটাকে শুধু “রাজ্য রাজনীতি” দিয়ে ব্যাখ্যা করলে ভুল হবে।
কারণ তখন গোটা বিশ্বেই—
* শ্রমিক আন্দোলন
* শ্রেণীসংগ্রাম
* anti-capitalist politics
* trade union mobilisation
খুব শক্তিশালী ছিল।
সোভিয়েত ইউনিয়ন তখন শুধু একটা দেশ না—
একটা ideological pole ছিল।
বিশ্বের বহু জায়গায় তখন—
capitalism বনাম communism
এই লড়াই চলছিল।
অর্থাৎ—
বাংলার বাম রাজনীতি একটা global current-এর অংশ ছিল।
কিন্তু এখন ছবিটা সম্পূর্ণ উল্টো।
আজ—
* ইউরোপে right-wing rise
* আমেরিকায় nationalist politics
* identity-driven polarisation
* border politics
* civilisational narrative
অনেক বেশি dominant।
অর্থাৎ—
global ideological wind এখন আর বামেদের পক্ষে না।
এবং এই factor-টা অনেকেই analysis করার সময় ignore করেন।
সংগঠিত শ্রমিক শ্রেণি ভেঙে গেলে বাম রাজনীতির পুরনো ভিত্তিও ভেঙে যায়
বাংলায় বাম রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি কী ছিল?
organised working class
বিশেষ করে—
* জুট মিল
* বড় কারখানা
* শিল্পাঞ্চল
* ইউনিয়নভিত্তিক শ্রমিক রাজনীতি
এই ecosystem-এর ওপর দাঁড়িয়েই বহু দশক বাম সংগঠন শক্তিশালী হয়েছিল।
কিন্তু আজ সেই কাঠামো প্রায় নেই।
বড় শিল্প কমেছে।
পাটশিল্প কার্যত মৃতপ্রায়।
স্থায়ী শ্রমিকের জায়গায় contract model এসেছে।
আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন—
automation + AI economy
কারণ ভবিষ্যতের অর্থনীতি যত automated হবে,
তত traditional mass working class কমবে।
তার বদলে আসবে—
* gig economy
* freelance work
* platform-based labour
* fragmented employment
অর্থাৎ—
মানুষ একই factory floor-এ দাঁড়িয়ে একসাথে রাজনীতি করবে—
সেই সামাজিক বাস্তবতাই ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।
এবং এই পরিবর্তনটা বাম রাজনীতির জন্য structural challenge।
কৃষক রাজনীতির জমিও আগের মতো নেই
বাংলার গ্রামে বাম রাজনীতির উত্থানের পিছনে একটা বড় কারণ ছিল—
জমিদার বনাম কৃষক conflict
অর্থাৎ—
* জোতদার বিরোধিতা
* জমির লড়াই
* ভূমি সংস্কার
* শ্রেণীভিত্তিক গ্রামীণ mobilisation
এইসব।
কিন্তু এখন গ্রামের সামাজিক কাঠামো বদলে গেছে।
আজ—
* ছোট ছোট জমির মালিকানা ছড়িয়ে গেছে
* পুরনো feudal structure দুর্বল হয়েছে
* কৃষক সমস্যার ধরন বদলেছে
এখনও সমস্যা আছে অবশ্যই—
* সেচ
* ফসলের দাম
* market access
* কৃষি ঋণ
কিন্তু সেই পুরনো ধরনের—
“গ্রাম বনাম জমিদার” class anger
এখন আর আগের intensity-তে নেই।
এবং এই পরিবর্তনটা গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ রাজনৈতিক আন্দোলন শুধু সমস্যার ওপর দাঁড়ায় না—
তার জন্য collective enemy perception-ও লাগে।
সমাজ বদলালে রাজনীতির মনস্তত্ত্বও বদলায়
আরেকটা subtle কিন্তু huge change হয়েছে সামাজিক স্তরে।
আগে বাংলায়—
joint family culture বেশি ছিল
অর্থাৎ—
* collective mindset
* group identity
* long-term sacrifice mentality
এই জিনিসগুলো comparatively বেশি দেখা যেত।
কিন্তু এখন—
nuclear family society dominant
মানুষ এখন অনেক বেশি—
* individual survival
* personal growth
* immediate security
এই জিনিসগুলোকে priority দেয়।
এটা inherently খারাপ না।
কিন্তু এর একটা রাজনৈতিক impact আছে।
কারণ traditional left politics অনেকটাই দাঁড়িয়ে ছিল—
collective sacrifice-এর ওপর
অর্থাৎ—
“ব্যক্তিগত লাভের আগে ideology”
কিন্তু modern aspirational society-তে মানুষ ideology-র চেয়ে stability আর upward mobility-কে বেশি গুরুত্ব দেয়।
welfare state নতুন ধরনের রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে
একসময়—
“রুটি-কাপড়া-মাকান”
ছিল mass politics-এর core slogan।
কিন্তু এখন পরিস্থিতি আগের মতো না।
আজ বিভিন্ন welfare scheme—
* রেশন
* স্বাস্থ্য প্রকল্প
* housing support
* cash transfer
* subsidy ecosystem
এর মাধ্যমে অন্তত minimum survival layer অনেকটাই cover করছে।
ফলে pure economic desperation থেকে mass uprising হওয়ার সম্ভাবনা আগের তুলনায় কমেছে।
অর্থাৎ—
শুধু অর্থনৈতিক স্লোগান দিয়ে আগের মতো mass mobilisation তৈরি করা এখন অনেক কঠিন।
class politics থেকে identity politics—বামেদের ভিতরেও ideological shift এসেছে
সোভিয়েত পতনের পর শুধু geopolitical map বদলায়নি—
বাম রাজনীতির character-ও বদলেছে।
আগে focus ছিল—
class struggle
এখন focus অনেক জায়গায় সরে গেছে—
* gender politics
* caste discourse
* identity debate
* minority question
এই shift globally visible।
কিন্তু এর ফলে একটা সমস্যা হয়েছে।
পুরনো শ্রমিক-কৃষকভিত্তিক বাম সমর্থকদের একটা অংশ মনে করেছে—
traditional economic politics weaken হয়ে গেছে।
ফলে পুরনো base-এর সঙ্গে ideological disconnect তৈরি হয়েছে বলেই অনেকের ধারণা।
ভবিষ্যতের বাংলা হয়তো অন্য ধরনের political fragmentation দেখবে
এই স্থিতিতে ভবিষ্যতের বাংলা সম্ভবত old Left vs old Congress model-এ ফিরবে না।
বরং দেখা যেতে পারে—
* regional identity politics
* caste/community-based mobilisation
* hyper-local political formation
অথবা সরাসরি BJP vs regional force bipolar contest
কারণ তৃণমূলের ভেতরের বড় অংশই একসময় anti-left politics করে উঠে এসেছে।
তাই তৃণমূল দুর্বল হলেই তাদের বড় অংশ সিপিএমে ফিরে যাবে—
এই ধারণাটা খুব বাস্তবসম্মত না।
আবার সবাই বিজেপিতেও যাবে না।
অর্থাৎ—
completely new equations তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
আরও পড়ুনঃ খুলে ফেলা হল মমতার ছবি, কড়া নিরাপত্তার চাদরে বঙ্গ বিধানসভা
“তৃণমূল গেলে বামেরা আসবে”—
এই analysis-টা politically convenient হতে পারে,
কিন্তু সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি আর global political trend দিয়ে দেখলে—
বাস্তবতা অনেক বেশি complex।
কারণ আজকের বাংলা আর ১৯৭০–৮০-র বাংলা না।
* working class বদলে গেছে* গ্রামের power structure বদলে গেছে
* family structure বদলে গেছে
* economy বদলে গেছে
* মানুষের aspiration বদলে গেছে
* আর global ideological climate-ও বদলে গেছে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—
ভবিষ্যতের বাংলায় কি পুরনো ideology ফিরবে?
নাকি—
সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হবে,
যেটা এখনও আমরা পুরোপুরি বুঝতেই পারিনি?


