Tuesday, 24 March, 2026
24 March
HomeকলকাতাThreesome: ‘থ্রিসাম অপরাধ নয়'; যৌন-অভিরুচি নিয়ে সরব তসলিমা

Threesome: ‘থ্রিসাম অপরাধ নয়’; যৌন-অভিরুচি নিয়ে সরব তসলিমা

সায়ক-সুস্মিতা তরজায় এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার টাইমলাইন দখল করে রেখেছে অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী এবং তাঁর প্রাক্তন ‘কূটনি বৌদি’ সুস্মিতার কাদা ছোড়াছুড়ি। একে অপরের বিরুদ্ধে আনছেন বিস্ফোরক সব অভিযোগ। সাধারণ মানুষ যখন এই বিতর্কে পক্ষ নিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রখ্যাত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের একটি ফেসবুক পোস্ট এই পুরো বিষয়টিকে এক ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। এই বিতর্ক থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারলেন না বিতর্কিত লেখিকা।

তসলিমার মতে, যে বিষয়গুলোকে নিয়ে সমাজ ‘ছি ছি’ করছে, তার অধিকাংশতেই আসলে কোনো অপরাধ নেই, যদি সেখানে পারস্পরিক সম্মতি থাকে।

আরও পড়ুনঃ আজ অশোক ষষ্ঠী, বাংলার ঘরে ঘরে মায়েদের পালন 

সমকামিতা কি অপরাধ?

সুস্মিতা অভিযোগ করেছেন সায়ক সমকামী এবং যৌন মিলনের সময় নাকি তাঁর পুরুষাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত হয়ে সে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। তসলিমা তাঁর পোস্টে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দুজনের সম্মতিতে ঘটা কোনো শারীরিক সম্পর্কে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। কেউ আহত হতে পারেন, আবার সুস্থও হতে পারেন। এটি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের অংশ, একে ‘চরিত্রহীনতা’ বলে দাগিয়ে দেওয়া আধুনিক মনস্কতার পরিচয় নয়। তিনি বলেন, ‘সুস্মিতা অভিযোগ করেছে সায়ক সমকামী, প্রেমিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কারণে তার কোনও একটি অঙ্গ ছিঁড়ে গিয়েছিল বলে রুবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। হতেই পারে। এ তো সায়কের দোষ নয়, পার্টনারদের মধ্যে ছোড়াছুড়ির আর ছেঁড়াছেঁড়ির ঘটনা ঘটতেই পারে, কেউ আহত হতেই পারে, আবার সুস্থও হয়ে যেতেও পারে।’

‘থ্রিসাম’ এবং ব্যক্তিগত পছন্দ

প্রাক্তন স্বামী সব্যসাচীর (সায়কের দাদা) বিরুদ্ধে ওঠা ‘থ্রিসাম’ বা একাধিক সঙ্গীর সাথে সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে তসলিমার যুক্তি অত্যন্ত স্পষ্ট। যদি সব কটি পক্ষ এতে রাজি থাকে এবং সেখানে কোনও জোর-জবরদস্তি বা ধর্ষণের মতো ঘটনা না ঘটে, তবে তাকে অপরাধ বলা চলে না। কার বেডরুমে কে থাকবে, সেটা সম্পূর্ণ তাঁদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

পাঁচটা বিয়ে বনাম ব্যক্তিগত আনন্দ:

অন্যদিকে সায়ক ও সব্যসাচী অভিযোগ করেছেন যে সুস্মিতা পাঁচবার বিয়ে করেছেন। তসলিমার দৃষ্টিভঙ্গিতে, কেউ যদি পাঁচবার বিয়ে করে আনন্দ পায় বা নিজের সঠিক সঙ্গী খুঁজে পেতে একাধিকবার চেষ্টা করে, তাতে অন্যের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কাউকে জোর করে বিয়ে না করলে বা প্রতারণা না করলে বিয়ের সংখ্যা দিয়ে কোনো মানুষের বিচার করা চলে না।

আরও পড়ুনঃ বদলির ইতিহাস আজকের নয়, ভোটের আগে বেনজির বদলি

তসলিমার মূল বার্তা: ‘শান্তি যদি আসে আসুক’

সুস্মিতা যদি সায়কের পরিবারের ‘মুখোশ উন্মোচন’ করে মানসিক শান্তি পান, তবে সেটি তাঁর অধিকার। কিন্তু তসলিমা মনে করেন, সমাজ যে বিষয়গুলোকে ‘নোংরামি’ বলছে, সেগুলো আসলে ব্যক্তিগত জীবনের বৈচিত্র্য মাত্র। কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে দেখা উচিত সেখানে কোনো আইনি অপরাধ (যেমন হিংসা বা জালিয়াতি) ঘটেছে কি না।

জনমানসে প্রভাব:

তসলিমার এই পোস্ট নেটিজেনদের এক বড় অংশকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে। অনেকেই বলছেন, সম্পর্কের তিক্ততা যখন রাস্তায় নেমে আসে, তখন মানুষ কেবল রসদ খোঁজে। কিন্তু প্রকৃত আধুনিকতা হলো অন্যের ব্যক্তিগত পছন্দকে সম্মান জানানো, তা সে বিয়ের সংখ্যা হোক বা যৌন অভিরুচি।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন