চব্বিশের ‘জুলাই বিপ্লবে’র জেরে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনাকে। প্রথমে তদারকি সরকার এবং পরে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশের। এই পুরো পর্বটায় হাসিনাকে বাংলাদেশের ‘বৈধ প্রধানমন্ত্রী’ বলে গিয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দুই যখন পশ্চিমবঙ্গের নয়া মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন, সেই সময়ই যারপরনাই আনন্দ প্রকাশ করল দেশান্তরিত হাসিনার দল আওয়ামি লিগ।
হাসিনার বার্তা
শুক্রবার বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক দলের তরফে নেত্রী হাসিনার বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে লেখা, ‘‘বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে সকল বিজয়ীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জয়ী দল বিজেপির বিজয়ীরাও রয়েছেন এর মধ্যে। তিনি (হাসিনা) শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।’’ ক্ষমতা হারিয়ে ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন হাসিনা। বঙ্গের ভাবী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে নানা সময় বলতে দেখা গিয়েছে, তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই আবার বাংলাদেশে ফিরবেন হাসিনা।
আরও পড়ুনঃ ‘কথা কম, কাজ বেশি’, লক্ষ্য বাঁধলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা
যদিও হাসিনা-উত্তর কালে বাংলাদেশের রশি যায় মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তদারকি সরকারের হাতে। তার পরেই নিষিদ্ধ করা হয় আওয়ামি লিগের কার্যকলাপ। গণহত্যার অভিযোগে হাসিনাকে ফাঁসির সাজাও দিয়েছে সে দেশের আদালত। ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনেও অংশ নিতে পারেনি হাসিনা দল আওয়ামি লিগ। বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও ইঙ্গিত দিয়েছেন নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হবে। এই পরিস্থিতিতে হাসিনা কবে বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন, কিংবা আদৌ পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সেই হাসিনাই শুভেন্দু অধিকারীকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং পশ্চিমবঙ্গ ও ভারতের সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।
আরও পড়ুনঃ পরমাণু মিসাইল উৎক্ষেপণ ভারতের, হাঁ করে দেখলেন বাংলাদেশিরা
বিজেপিকে অভিনন্দন বিএনপির
এদিকে, বিজেপির বিপুল জয়ে পদ্মশিবিরকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন বিএনপি-ও। শাসক দলের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুর বারি হেলাল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির এই অভাবনীয় সাফল্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার তিস্তা ব্যারেজ চুক্তির পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই জয়ের ফলে দুই দেশের সম্পর্ক ইতিবাচকভাবেই এগিয়ে যাবে।”


