Friday, 27 March, 2026
27 March
HomeকলকাতাAnnapurna Puja: কাশী নয়, বাংলার বুকেই লুকিয়ে মা অন্নপূর্ণার শেকড়!

Annapurna Puja: কাশী নয়, বাংলার বুকেই লুকিয়ে মা অন্নপূর্ণার শেকড়!

চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই ঘটনার স্মরণে শুরু হল অন্নপূর্ণা পুজো।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

“খাদ্য তো নিছকই মায়া!” দেবাদিদেব মহাদেবের এই এক কথাতেই চরম রুষ্ট হলেন দেবী পার্বতী। নিমেষে কৈলাস ত্যাগ করলেন তিনি, আর বিশ্বজুড়ে নেমে এল তীব্র খাদ্য সংকট, হাহাকার। ক্ষুধার জ্বালায় শেষে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে সেই মহাদেবকেই ছুটতে হল কাশীতে। দেখলেন, এক দেবী স্মিতহাস্যে সকলকে অন্নদান করছেন। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং দেবী অন্নপূর্ণা। স্ত্রীর হাত থেকে অন্নগ্রহণ করে মহামারী থেকে বিশ্বকে রক্ষা করলেন শিব। পুরাণ মতে, চৈত্র মাসের শুক্লাষ্টমী তিথিতে এই ঘটনার স্মরণে শুরু হল অন্নপূর্ণা পুজো।

কিন্তু মজার বিষয় হল, যে দেবীর নাম শুনলেই আমাদের কাশীর কথা মনে পড়ে, ইতিহাস বলছে তাঁর শেকড় কিন্তু লুকিয়ে আছে এই বাংলার বুকেই!

আরও পড়ুনঃ সত্যিই কি এনার্জি লকডাউন হবে! উত্তরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

কাশী নাকি রাঢ়বঙ্গ: কোথা থেকে এলেন অন্নদাত্রী?

কাশীর অন্নপূর্ণা মন্দির গোটা দেশে প্রসিদ্ধ হলেও, গবেষকদের মতে আদতে দেবী অন্নপূর্ণা রাঢ়-বঙ্গের শস্যদেবী। সুপ্রাচীন কাল থেকেই অগ্রহায়ণ মাসে নবান্ন উৎসবের সময় কৃষিজীবী মানুষ ধান দিয়ে এই দেবীর পুজো করতেন। আকাল বা দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচতে শ্রমজীবী মানুষেরাই শুরু করেছিলেন এই পুজো। পরবর্তীকালে প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরেই এই শস্যদেবী কাশীতে গিয়ে প্রতিষ্ঠিত হন এবং কালক্রমে কাশীর দেবী অন্নপূর্ণা হয়ে ওঠেন বাঙালির ঘরের মেয়ে!

আচার্য সুকুমার সেনের মতে, দেবী অন্নপূর্ণা আসলে গ্রিক ও রোমান দেবী ‘অন্নোনা’-র (Annona) রূপান্তর। তবে সে যাই হোক, বাংলায় এই পুজোর ব্যাপক প্রসার ঘটে ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গলকাব্য’ এবং নদিয়া রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদার ও পরবর্তীকালে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরে। মূলত তাঁদের আমল থেকেই কৃষকের ঘরের শস্যদেবী প্রবেশ করেন জমিদারদের ঠাকুরদালানে।

দক্ষিণেশ্বরের ছায়া ব্যারাকপুরে: যেখানে দেবীর ভোগে মাছ আবশ্যিক!

কলকাতার বুকে বনেদি বাড়ির অন্নপূর্ণা পুজোর কথা উঠলেই সবার আগে আসে ব্যারাকপুরের (তৎকালীন চাণক) তালপুকুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের কথা। এই মন্দিরের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইতিহাস। রানি রাসমণির জামাই মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছে ছিল অন্নপূর্ণার মন্দির গড়ার। তাঁর অবর্তমানে তাঁর স্ত্রী তথা রানির ছোট মেয়ে জগদম্বাদেবী ১৮৭৬ সালের ১২ এপ্রিল এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

ঠিক যেন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের যমজ বোন! দক্ষিণেশ্বরের ঠিক ২০ বছর পর প্রতিষ্ঠিত এই নবরত্ন মন্দিরের উচ্চতা দক্ষিণেশ্বরের চেয়ে সামান্য বেশি হলেও দৈর্ঘ্য ও প্রস্থে কিছুটা কম। এখানে ছ’টি শিবমন্দির ও গঙ্গার ঘাট রয়েছে। মন্দিরের নাটমন্দিরে রয়েছে গথিক স্থাপত্যের স্পষ্ট ছাপ। শোনা যায়, প্রবেশপথের তোরণের ওপর থাকা সিংহটি সরানোর জন্য ব্রিটিশ প্রশাসন প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আদালত রায় দেয় সিংহ যথাস্থানেই থাকবে! অষ্টধাতুর দেবী এখানে বেনারসি ও স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিতা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই মন্দিরে দেবীর অন্নভোগে প্রতিদিন মাছ থাকা একেবারেই বাধ্যতামূলক!

আরও পড়ুনঃ বাংলার নিজের রাম পুজো ও রাম নবমী

স্ত্রীদের কাশীযাত্রা রুখতে মন্দির এবং ম্যাঞ্চেস্টারের বিগ্রহ

কেবল ব্যারাকপুর নয়, কলকাতার আরও অনেক জায়গায় ছড়িয়ে আছে অন্নপূর্ণা পুজোর চমকপ্রদ ইতিহাস। বেহালার বড়িশায় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের চন্দ্রকান্ত রায়চৌধুরী ১৮৫০ সালে একটি অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কারণটা বেশ অদ্ভুত! তাঁর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না, তাই তাঁর দুই স্ত্রী প্রতিজ্ঞা করেছিলেন স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁরা কাশীবাসী হবেন। স্ত্রীদের কাশী যাওয়া আটকাতেই তিনি বাড়িতে মন্দির গড়ে দেন!

অন্যদিকে, বিডন স্ট্রিটের ‘মিত্রাশ্রম’-এ শিবসুন্দরী মিত্র ১৯০৪ সালে যে অন্নপূর্ণা ও শিব মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন, তা তৈরি করিয়ে আনা হয়েছিল সুদূর ইংল্যান্ডের ম্যাঞ্চেস্টারের স্টুয়ার্ট কোম্পানি থেকে! এছাড়া বলরাম দে স্ট্রিটের খান পরিবারের সাবেকি পুজোও আজও ঐতিহ্য মেনে হয়ে আসছে।

নবান্নের সময় কৃষকের মাটির উঠোন হোক, বা চৈত্র মাসে জমিদারদের সুসজ্জিত নাটমন্দির— অন্ন দিয়ে যিনি দারিদ্র্য ও দুঃখ মেটান, তিনিই মা অন্নপূর্ণা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুজোর ধরন বা জাঁকজমক হয়তো বদলেছে, কিন্তু ভক্তির সূত্রে আজও বাঁধা গোটা বাঙালি সমাজ। পেটের জ্বালা জুড়িয়ে হাসিমুখে যিনি সকলের অন্নপাত্র পূর্ণ করেন, তিনি তো চিরকালই বাঙালির নিজের ঘরের মেয়ে!

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন