রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই পশু হত্যা সম্পর্কিত বিষয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেছে বর্তমান সরকার। এই আবহে এবার গো-মাংসের তৈরি নানা পদ বিক্রি বন্ধ করে দিল প্রায় শতবর্ষ প্রাচীন খ্যাতনামা রেস্তরাঁ নিজাম। তবে এই নিয়ে রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে নারাজ৷
অন্যদিকে গো-মাংসের নানা পদ বিক্রি করা নিয়ে ব্যবসায়ীরা আছেন দোলাচলে। ফলে সার্বিকভাবে খ্যাতনামা দোকান থেকে ছোট বড় মাঝারি দোকান-রেস্তরাঁ গো-মাংসের পদ বিক্রি প্রায় তলানিতে। আগামিদিনে এই ধরনের পদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। অনেকের দাবি, মাংসের চাহিদায় টান পড়তেই বেড়েছে দাম। সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে৷
কাঠি কাবাব রোল, সে চিকেন হোক কিংবা মাটন বা বিফ, নাম বললেই আপামর খাদ্যরসিকদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ধর্মতলার শতবর্ষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাওয়া রেস্তরাঁ নিজামের নাম। খাদ্য রসিক মানুষজন এমন কেউ নেই, যিনি এখনও নিজাম রেস্তরাঁয় খাননি। এখানে শুধু রোল নয়, লাচ্ছা পরোটা, তন্দুর, কাবাব, বিরিয়ানি, ফিরনির মতো একাধিক খাবারের সুস্বাদু পদ বিক্রি হয়।
আরও পড়ুনঃ অ্যাকশন শুরু; আরজি কর ফাইল গেল খুলে!
এই রেস্তরাঁর একটি সম্পূর্ণ আলাদা শাখাই ছিল, যেখানে এমনই সব নানা পদ পাওয়া যেত গো-মাংসের। তবে সম্প্রতি সেই পদ বিক্রি বন্ধ করেছে তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেস্তোরাঁর এক কর্মীর মতে, ‘‘রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও সুষ্ঠভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতেই এই সিদ্ধান্ত।’’
মাস্তান নামে অন্য এক রেস্তরাঁর এক কর্মী বলেন, ‘‘আপাতত বিক্রি করছি। এখনও কোনও নির্দেশ আসেনি। আমাদের এই এলাকার সব দোকানে অধিকাংশ ক্রেতাই গো-মাংসের পদ খান। কিন্তু এখন যোগান কম হওয়ায় বেড়েছে মাংসের দাম। ফলে পদগুলোর সব দাম বাড়াতে হয়ছে। আগে ৮0-১00 টাকায় বিরিয়ানি বিক্রি হলেও এখন ১৪0-১৫0 টাকা করতে হয়েছে। তবে গো-মাংস বিক্রির ক্ষেত্রে কোনও আপত্তি-বাধা এলে আমরা বন্ধ করে দেব। তখন চিকেন, মাটন বিক্রি করব।’’
আরও পড়ুনঃ একেবারে টি টোয়েন্টি মুডে শুভেন্দু; গ্রেফতার তৃণমূল নেতা হাফিজুল
আরেক হোটেল মালিকের কথায়, ‘‘এখনও সমস্যা তৈরি হয়নি৷ তাই ব্যবসা করতে পারছি। তবে দাম বাড়ার ফলে ব্যবসায় একটা সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মাংস আসছে না আগের মতো। এখন যেটুকু মিলছে বেশি দামে।’’ যদিও পার্ক স্ট্রিট চত্বরে বেশ কিছু রেস্তরাঁয় বিক্রিবাট্টা স্বাভাবিক রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোটেল ম্যানেজারের কথায়, ‘‘নির্দেশিকা জারি হলে ব্যবসার স্বার্থে অবশ্যই সরকারি নির্দেশ মানব। আমরা চাই সুষ্ঠু ভাবে ব্যবসা করতে।’’


