শুভজিৎ মিত্র,কলকাতা:
পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত বিজেপি সরকারের সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে,রাজনৈতিক মহলে ‘তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।’রাজ্য প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ‘নবান্ন’ ত্যাগ করে পুনরায় ঐতিহাসিক ‘মহাকরণ’-এ ফেরার তোড়জোড় হোক,কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে বাম আমলের দাপুটে আমলা সুব্রত গুপ্তকে নিয়োগ—প্রতিটি পদক্ষেপেই যেন অতীতে বাম শাসনের প্রশাসনিক কাঠামোর প্রতিফলন ঘটছে।বিশ্লেষকদের মতে,রাজ্য পরিচালনায় শৃঙ্খলা এবং অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে নব্য সরকার সচেতনভাবেই বাম জমানার পরীক্ষিত মডেলে আস্থা রাখছে।যা এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে!
নেপথ্যে ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণ!
এই প্রশাসনিক পরিবর্তনের নেপথ্যে,”সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ভোটব্যাঙ্কের সমীকরণটিও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।”রাজনৈতিক পন্ডিতদের মতে,”এবারের নির্বাচনে বামপন্থীদের একটি বিশাল অংশের ভোট ‘রামে’ স্থানান্তরিত হওয়া সরকারের এই জয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।”তৃণমূল বিরোধী ভোট এককাট্টা করতে যে,বাম সমর্থকরা বিজেপিকে সমর্থন করেছিলেন।তাঁদের মনস্তত্ত্ব এবং প্রশাসনিক প্রত্যাশাকে মর্যাদা দিতেই কি এই ‘বাম ঘেঁষা’ সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার অলিতে-গলিতে।সম্ভবত,বামপন্থী ভোটারদের স্থায়ী জনভিত্তিতে পরিণত করতেই,তাঁদের পছন্দের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও গাম্ভীর্য ফিরিয়ে আনতে চাইছে গেরুয়া শিবির।
আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে কড়া বার্তা! ভারতে বাড়ছে চিনা অনুপ্রবেশ
সুব্রত গুপ্তের পুনরায় প্রশাসনিক গুরুত্ব দান
বিশেষ করে,সুব্রত গুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বকে নীতিনির্ধারণী স্তরে নিয়ে আসা এক মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে।বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের জমানায়, শিল্পায়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।বর্তমান সরকার সম্ভবত মনে করছে,”দীর্ঘদিন ধরে বিপর্যস্ত থাকা রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থানের মানচিত্র বদলাতে বাম আমলের সেই ধ্রুপদী আমলাতান্ত্রিক দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।”নবান্নের পরিবর্তে,মহাকরণের অলিন্দ থেকে রাজ্য শাসন করার সিদ্ধান্তটিও মূলত,ক্ষমতার ভরকেন্দ্রকে পুনরায় প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের মোড়কে সাজানোর একটি প্রতীকী প্রচেষ্টা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
তবে,এই বাম-অনুসরণ নিয়ে রাজনৈতিক তর্জা থামছে না।বিরোধীদের দাবি,’নিজস্ব প্রশাসনিক ব্লু-প্রিন্ট না থাকায় বিজেপি এখন ‘বাম পন্থায়’ রাজ্য চালাতে চাইছে।’অন্যদিকে,’শাসক শিবিরের যুক্তি—এটি কোনো রাজনৈতিক অনুকরণ নয়,বরং প্রশাসনিক শূন্যতা পূরণে যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য সম্মান দেওয়া।’সব মিলিয়ে,বাম আমলের প্রশাসনিক মেজাজ ও ঘরানাকে সঙ্গী করে নবগঠিত সরকার বাংলার সাধারণ মানুষের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারে এবং উন্নয়নের চাকা কতটা দ্রুত ঘোরাতে পারে, এখন সেটাই দেখার!


