রাজ্যে ঘটে গিয়েছে রাজনৈতিক পালাবদল। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। সোমবার প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকও করে ফেলছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহেই ফের বোমা ফাটালেন প্রাক্তন ভারতীয় কূটনীতিক দীপক বোহরা। তিনি বলেছেন বাংলার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের একটি গোপন বৈঠক হয়।
বোহরার অভিযোগ, সেই বৈঠকে মমতা ইউনূসকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশকে একীভূত করে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ গঠন করা হোক, যেখানে মমতা হবেন প্রধানমন্ত্রী এবং ইউনূস থাকবেন প্রেসিডেন্ট।সোমবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের ঠিক আগে এই দাবি সামনে আসায় রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীপক বোহরা তাঁর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের তাঁর নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এই তথ্য পেয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘যেমন কর্ম তেমন ফল’! প্রতাপের বদলিতে উচ্ছ্বাস কর্মচারী মহলে
তিনি আরও জানিয়েছেন যে, এই ধরনের আলোচনা শুধু ক্ষমতার ভাগাভাগির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দীর্ঘদিনের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হতে পারে।এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতারা এটিকে তৃণমূলের ‘দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “এই ধরনের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাহলে এটা রাজ্যের স্বার্থের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, নতুন সরকার এই বিষয়ে তদন্ত করে দেখবে এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সঙ্গে নিয়ে পুরো ঘটনার তথ্য উদঘাটন করবে।তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অবশ্য এই অভিযোগকে ‘একেবারে ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের এক মুখপাত্র বলেন, “নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপি এখন এ ধরনের মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেয় করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুনঃ BSF-কে জমি, আজ থেকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’; একাধিক সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
তবে দীপক বোহরা কিন্তু তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর ইউনূসের সরকারের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ বেড়েছিল। সেই সময়কালেই নাকি এই গোপন আলোচনা হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের প্রস্তাব যদি সত্যিই দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা ভারতের সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।
রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে বলছেন, যদি এমন কোনো আলোচনা হয়েই থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর। বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশ, সীমান্ত সংঘাত এবং সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলি নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছিল। তার সঙ্গে যদি এই ধরনের ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ ধারণা যুক্ত হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।


