উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও এক বড় উন্নয়নের ইঙ্গিত মিলল কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রকের তরফে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে ডবল লাইনের কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠিয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন। মাত্র ৭.১৫ কিলোমিটারের এই প্রকল্প ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলেই মনে করছে রেলমন্ত্রক।
আরও পড়ুনঃ ২৪টি জেসিবি অর্ডার, শিলিগুড়িতে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি সাংসদ রাজুর
বর্তমানে এনজেপি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলপথ উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত করিডর হিসেবে পরিচিত। এই রুট দিয়েই উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রেল যোগাযোগ বজায় থাকে। প্রতিদিন বহু দূরপাল্লার ট্রেন, পণ্যবাহী ট্রেন এবং স্থানীয় ট্রেন এই লাইনের উপর নির্ভর করে চলাচল করে। ফলে একটি মাত্র লাইনের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরেই। ট্রেনের গতি কমে যাওয়া, সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা এবং সময়সূচিতে দেরি হওয়া ছিল নিত্যদিনের সমস্যা। সেই কারণেই বহুদিন ধরে এই রুটে ডবল লাইনের দাবি উঠছিল।
রেলমন্ত্রকের মতে, নতুন ডবল লাইন প্রকল্প চালু হলে ট্রেন চলাচল আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের দিকে যাওয়া ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে সময় অনেকটাই কমে আসতে পারে। পাশাপাশি পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও গতি বাড়বে, যা বাণিজ্যিক দিক থেকে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। চা শিল্প, কৃষিপণ্য পরিবহণ এবং পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন”; মমতাহীন বিধানসভায় তাপস
রাজনৈতিক মহলেও এই প্রকল্প নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। কারণ কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি পাঠানোয় বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গে অবকাঠামোগত উন্নয়নকে সামনে রেখে কেন্দ্র ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে রেল, সড়ক ও বিমান যোগাযোগে উন্নয়ন এখন উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতেও বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের প্রাথমিক অনুমোদন ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই নির্মাণ সংক্রান্ত পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। জমি, প্রযুক্তিগত পর্যালোচনা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়গুলি দ্রুত শেষ করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।


