চরম অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ। মধ্যরাতে যেন ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্ন ধেয়ে এল জঙ্গিরাষ্ট্রে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ঘোষণা করায় দেশজুড়ে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। নয়া ঘোষণা অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৪১৫ টাকায় পৌঁছে গিয়েছে।
রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি
পাক সরকারের এই সিদ্ধান্তে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। পেট্রোলের পাশাপাশি ডিজেল এবং কেরোসিন তেলের (Petrol Diesel Price) দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং আইএমএফের (IMF) কঠিন শর্ত পূরণ করতেই পাক সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে বলে খবর।
জনজীবনে প্রভাব
রাতারাতি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পাকিস্তানের পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার জোগাড়। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। মুদ্রাস্ফীতির চাপে আগে থেকেই পর্যুদস্ত পাক নাগরিকদের ওপর এই নতুন বোঝা যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা। অনেক জায়গায় পেট্রোল পাম্পগুলিতে দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে, ক্ষুব্ধ নাগরিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃ মমতার সরকার ফেলার ছক কষেছিলেন ‘অন্ধ স্নেহ’ অভিষেকই
অর্থনৈতিক সঙ্কট ও আইএমএফের শর্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইএমএফের থেকে বেলআউট প্যাকেজ বা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে ভর্তুকি কমাতে এবং কর বৃদ্ধি করতে হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের খেটে খাওয়া মানুষের পকেটে। তেলের দাম ৪০০ টাকার গণ্ডি পার করায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলির জীবনযাত্রার মান তলানিতে ঠেকার জোগাড়। এই মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলিও সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই পরিস্থিতি আরও উসকে দিতে পারে পাকিস্তানে গণ-অসন্তোষ এবং অস্থিরতাকে।


