মমতার পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ভিডিয়ো বার্তা বাংলাদেশের মৌলবাদী নেতার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত মেজর বজলুল হুদার ছোট ভাই নুরুল হুদা ডিউক মমতার উদ্দেশে বলেন, তিনি যেন পশ্চিমবঙ্গের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। তিনি নিজের ভিডিয়ো বার্তায় বলেন, ‘সম্মানিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ না করায় এবং সাম্প্রদায়িক বিজেপির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য আপনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আরও একটু সাহসী হয়ে দিল্লির শাসনকে প্রত্যাখ্যান করুন এবং পশ্চিমবাংলাকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করুন। বাংলাদেশ স্বাধীনতায় যেভাবে আপনারা সহযোগিতা করেছিলেন, তা আমরা ভুলিনি। আমরা ১৭ কোটি মানুষ এখন আপনাদের সহযোগিতা করব। সমর্থন করব। আপনি সাহস করে স্বাধীনতা ঘোষণা করুন, আপনার পাশে বাংলাদেশ থাকবে। স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আপনাদের আমরা স্বীকৃতি দিচ্ছি।’
প্রাক্তন হয়েও পদত্যাগ করেননি। শুধু যে দল হেরেছে, এমনটা নয়, তিনি নিজেও নিজের আসনে হেরেছেন। কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমোর বাসভবনের বৈঠকে মমতা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে লোকভবনে গিয়ে ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, রাজ্যের রাষ্ট্রপতি শাসন কার্যকর হলে সেটাই হোক। রেকর্ড হয়ে থাকুক সেটা। বরখাস্ত করে দিক। আর সেই দিনটি ইতিহাসে একটি ‘কালো দিন’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়ে থাকুক।
প্রথা অনুযায়ী, ফলাফল নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী গিয়ে পদত্যাগ করেন। হার, জিত নির্বিশেষে সরকারের মেয়াদ শেষের সময় মুখ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী যদি জয়ী হন, তাহলে তিনি নতুন করে শপথ গ্রহণ করেন। তবে এই ক্ষেত্রে মমতা হেরে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে, তাদের আমন্ত্রণ জানাবেন রাজ্যপাল। নয়া সরকার গঠনের আগে পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান রাজ্যপাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, বিজেপির জয় অনৈতিক। ১০০ আসন চুরি করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘সব ফাইল খোলাব’, হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর
এমনিতে মুখ্যমন্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে কি রাজ্যপাল তাঁকে বরখাস্ত করতে পারেন? নিয়ম ঠিক কী বলছে? প্রথমত, রাজভবন থেকে একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে রাজ্যপাল সরাসরি সরকারকে বরখাস্ত করতে পারেন। দ্বিতীয়ত, রাজ্যপাল সরাসরি বরখাস্ত না করে মুখ্যমন্ত্রীকে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার নির্দেশ দিতে পারেন। সেখানে যদি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইস্তফা দেওয়া ছাড়া আর কোনও পথ খোলা থাকবে না। এছাড়া রাজ্যপাল সংবিধানের ৩৫৬ ধারা অনুযায়ী কেন্দ্রে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সুপারিশ পাঠাতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া মানেই রাজ্যের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রের হাতে চলে যাওয়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদের বিলুপ্তি ঘটা।


