বাংলাদেশে অফিস তিন দিন: দেশের সংকট দৃশ্যমান। আপনি প্রস্তুত?
সরকারি নোটিশ এসেছে। অফিসের সময় কমিয়ে তিন দিন করা হচ্ছে। বাকিটা সময় অনলাইনে কাজ করতে হবে।
প্রশ্ন হলো, এই সংকটের শেষ কবে? ইরান বলেছে আমেরিকাকে একেবারে সরে যেতে হবে, কোন বিরতি চলবে না। আমেরিকা রাজি হয়নি। তাই যুদ্ধ চলবে। এবং ক্রমেই সংকট বাড়বে।
চলুন দেখি জ্বালানী সমস্যা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে কিভাবে বিপদে ফেলবে:
১. ক্রমে বিদ্যুৎ সংকট বাড়বে। শিল্প-কারখানা, খাদ্যের দাম ধরে রাখা যাবে না, তবু দুর্ভিক্ষের হাত থেকে বাঁচাতে বাসা-বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হবে। শিল্পে একটু বেশি দিবে কিন্তু পর্যাপ্ত না।
২. ডিজেল, পেট্রোল, এর দাম বাড়বে। যাতায়াত ভাড়া ১৫-২৫% বেড়ে যাবে সপ্তাহখানেকের ভেতর।
৩. যাতায়াত ভাড়া বাড়লে পণ্য পরিবহন ভাড়া বাড়বে। বাজারে আগুন লাগবে।
৪. গার্মেন্টস ও মৌসুমী ব্যবসাতে ছোট পদগুলি আপাতত দরকার হবে না। অনলাইন ব্যবসা ধ্বসের মুখে পরবে। প্রচুর ছাটাই শুরু হবে। মানুষ উপার্জনের রাস্তা হারাবে।
৫. আপাতত তিনদিন বন্ধ করবে অফিস। সংকট বাড়লে অফিস সময় আরো কমিয়ে অনলাইনে নেয়া হবে।
৬. বিদ্যুৎ সংকটে ফ্রিজ, মেশিন না চললে বিভিন্ন ব্যবসা কমে যাবে। ব্যবসা কম মানে আয় কম।
৭. সোলার, আইপিএস, চার্জে ব্যবহার হয় এমন পণ্যের বাজারে চাপ তৈরী হবে। সরকার খাবার বাদে বিলাসী পণ্যে টাকা খরচ করবে না। তাই যুদ্ধ চলমান থাকলে চায়না থেকে এসব পণ্যের ব্যাটারি, পার্টস, আমদানী বন্ধ থাকলে দ্রুতই স্টক খালি হবে।
৮. অফিসের কাজ তিন দিন বা সপ্তাহে অর্ধেক দিন কমা মানে পরিবহনে যুক্ত মানুষদের আয় সরাসরি অর্ধেকে নেমে আসবে।
৯. সামনে কোরবানী ঈদ। জ্বালানী সংকট বাড়লে কোরবানী পশুর সরবরাহ কমবে। দাম বাড়বে। অন্যদিকে, পরিবহন সংকট হলে যারা এ বছরই গরু বিক্রি করবে নয়ত ঋণের জালে আটকা পরবে তারা বাধ্য হয়ে পশু ছেড়ে দিবে। দাম কমে যাবে বিভিন্ন অঞ্চলে। টিপস: যারা কোরবানী দেন তারা এ বছর নগদ অর্থ অপচয় করবেন না। বাজেট কমিয়ে কোরবানীর হক আদায় করে নিন।
১০. এখন থেকেই ফার্মিং শুরু করুন। নয়ত শীঘ্রই টিভিতে খবর আসবে, খাবারের অভাবে লোকেরা কচু সেদ্ধ খাচ্ছে। অবশ্যই দেখবেন।
আরও পড়ুনঃ চুপি চুপি ১০-৩০% দাম বাড়ছে মোবাইল, এসি এবং ওয়াশিং মেশিনের! জেনেও চুপ সরকার
সর্বোপরি, কৃষিতে বিরাট বিপদ অলরেডি ঘণ্টা বাজাচ্ছে। সারের দাম প্রায় শতভাগ বেড়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে ৩০-৫০% চালের দাম বেড়ে যাবে।
এনালিটিকস বলছে, এশিয়ায় তেলের মজুদ রয়েছে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। সেজন্য রেশনিং করে যত বেশি সময় বাড়ানো যায়, সরকারগুলি চেষ্টা করছে। ইরান থেকে ৬ টা জাহাজ আসবে। এসব যথেষ্ট না। সরকার ঘরে ঘরে লোডশেডিং দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
সবাই যখন ৯৫-১১০ ডলারে তেল কিনছে, তখন সৌদি, কাতার মাত্র ৭৬ ডলার ব্যারেলে তেল বিক্রি করছে। এত কমে কেউ পাচ্ছে না।
যাইহোক, আপনি যদি চারপাশের বিপদ প্রকাশ্যে আসার পর দৌড় শুরু করেন তাহলে তিনবার গ্যারান্টি করছি, এই ফুয়েল প্রবলেম আপনাকে মাটিতে দাফন করে দিবে। তাই এখুনি ফার্মিংয়ে দৌড় দিন। বাড়ির ছাদ, উঠোনে, সরকারি খাস জমি, মাঠ, যেখানেই জায়গা পান কাজে লাগানো শুরু করেন।
সময় কিন্তু শেষের দিকে….



