বাংলায় ভোটের দামামা বেজে উঠতেই সমস্যায় পড়েছেন বহু নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবার। নির্বাচন আচরণবিধি জারি হওয়ার পর থেকেই জনপ্রিয় রূপশ্রী প্রকল্পের অনুদান বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। যার ফলে মেয়ের বিয়ের খরচ সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন বহু পরিবার, বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ও সংলগ্ন এলাকায়।
আরও পড়ুনঃ এবার ‘ছাতা চোর’! তৃণমূলের মিছিলে দলের দেওয়া ‘ছাতা চুরি’, ক্ষোভ উগরে দিলেন সাংসদ
রূপশ্রী প্রকল্পের অধীনে রাজ্য সরকার ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মেয়েদের বিয়ের জন্য এককালীন ২৫,০০০ টাকা অনুদান দিয়ে থাকে। বহু দরিদ্র পরিবারের জন্য এই টাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু বর্তমানে সেই অর্থ না মেলায় অনেক পরিবারকেই ধারদেনা করতে হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন ঘোষণার পর আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় সরকারি প্রকল্পের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হল ভোটারদের প্রভাবিত করার সম্ভাবনা এড়িয়ে চলা। রূপশ্রী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে।
এদিকে ভাঙড় ১, ভাঙড় ২ এবং ক্যানিং ২ ব্লকের বিডিও অফিসগুলিতে প্রতিদিন বহু মানুষ ভিড় করছেন। তাঁদের দাবি, সময়মতো আবেদন করার পরও অ্যাকাউন্টে টাকা আসেনি। অনেকের মেয়ের বিয়ের দিন ঘনিয়ে আসলেও অনুদান না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের বিয়ে ২১ এপ্রিল। নিয়ম মেনে একমাস আগেই আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে অন্য উপায়ে অর্থ জোগাড় করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ২০২৬ রাজ্য নির্বাচনে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাশ্মীরকেও ছাড়িয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গ
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, চলতি প্রকল্পের টাকা ছাড়তে হলে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন। এখনও পর্যন্ত সেই অনুমতি মেলেনি। তবে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বা কমিশনের অনুমতি মিললে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হতে পারে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের কারণে প্রশাসনিক নিয়মের জেরে আপাতত আটকে রয়েছে রূপশ্রী প্রকল্পের অর্থ। তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যে অনেকটাই বেড়েছে, তা স্পষ্ট। এখন সকলের নজর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে।



