Friday, 10 April, 2026
10 April
HomeকলকাতাECI: আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

ECI: আরও ১৪৯ পুলিশ আধিকারিককে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন

বিভিন্ন জেলার ৮১ জন পুলিশ ইন্সপেক্টর এবং ১৯ জন এসআইকে সরানো হল। তাঁদের যাতে কোনওভাবেই নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও কাজে যুক্ত করা না হয়, তা স্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

রাজ্য পুলিশে ফের রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। ৮১ জন পুলিশ ইনস্পেক্টরকে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। সরানো হল ৬৮ জন সাব-ইনস্পেক্টরকেও। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, এই আধিকারিকেরা ভোটের কোনও কাজের সঙ্গে আর যুক্ত থাকতে পারবেন না। কলকাতার সদ্য প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ভোটের দায়িত্ব পালনের জন্য পর্যবেক্ষক হিসেবে তামিলনাড়ুতেই যেতে হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। শারীরিক অসুবিধার কথা জানিয়ে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছিলেন সুপ্রতিম।

৮১ জন ইনস্পেক্টরকে নতুন দায়িত্বও বলে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের বৃহস্পতিবার জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন পদে দায়িত্ব নিতে হবে। কমিশনের নির্দেশে এঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারেরা। কমিশন জানিয়েছে এই পুলিশ অফিসারেরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ভোটের কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না, এই মর্মে পুলিশ সুপারদের মুচলেকা দিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ভারতের থিয়েটার কমান্ড! কাঠামো প্রায় চূড়ান্ত

সাব-ইনস্পেক্টরদের বদলি সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে কমিশন। তাতে বলা হয়েছে, গত ২৯ মার্চ ১৫০ জন ইনস্পেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৪৯ জন এসআই বিভিন্ন থানায় কাজ করছেন। সেই ৪৯ জন যে জেলায় কর্মরত, সেখান থেকে তাঁদের অন্য জেলায় সরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা ভোটের কাজে কোনও ভাবেই যুক্ত থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া আর একটি বিজ্ঞপ্তিতে আলাদা করে ১৯ জন সাব-ইনস্পেক্টরকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে সমস্ত ইনস্পেক্টরকে ভোটের কাজ থেকে সরানো হয়েছে, তাঁদের মধ্যে কোচবিহারের দু’জন, রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার চার জন, ইসলামপুর পুলিশ জেলার চার জন, আলিপুরদুয়ারের এক জন, দক্ষিণ দিনাজপুরের তিন জন, শিলিগুড়ির দু’জন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার তিন জন, বারুইপুর পুলিশ জেলার দু’জন, বারাসত পুলিশ জেলার তিন জন, বসিরহাট পুলিশ জেলার এক জন, বনগাঁ পুলিশ জেলার এক জন, ব্যারাকপুরের চার জন, বিধাননগরের ছ’জন, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার চার জন, রানাঘাট পুলিশ জেলার চার জন, আসানসোল দুর্গাপুরের এক জন, পশ্চিম মেদিনীপুরের তিন জন, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁচ জন, পুরুলিয়ার দু’জন, বীরভূমের দু’জন, জলপাইগুড়ির এক জন, মালদহের তিন জন, বাঁকুড়ার এক জন ইনস্পেক্টর রয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ সরকার বদলালেও পাল্টাবে কি পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি?

আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে দুই দফায়। বর্তমানে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নির্বাচন কমিশনের হাতে। ভোট ঘোষণা হওয়ার পরেই রাজ্য প্রশাসনে ঢালাও রদবদল করেছে কমিশন। বদলে দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব, পুলিশ কমিশনার, ডিজি-দেরও। প্রশাসনিক রদবদলে কমিশনের এই অতি তৎপরতাকে ভাল চোখে দেখছে না শাসক তৃণমূল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে একাধিক জনসভা থেকে এ বিষয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। এমনকি, সুপ্রতিমের তামিলনাড়ুতে পোস্টিং প্রসঙ্গেও কমিশনের সমালোচনা করেছিলেন মমতা। কিন্তু দেখা গেল,সেই সুপ্রতিমকেও অব্যাহতি দেওয়া হল না।

একনজরে দেখে নিন কোন ৮১ জন পুলিশ ইন্সপেক্টরকে নির্বাচনের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কুণালকান্তি দাস (কোচবিহার)
হেমন্ত শর্মা (কোচবিহার)
উদয়শংকর ঘোষ (রায়গঞ্জ)
গৌতম চৌধুরী (রায়গঞ্জ)
প্রণব সরকার (রায়গঞ্জ)
মনোজিৎ দাস (ইসলামপুর)
সন্দীপ চক্রবর্তী (ইসলামপুর)
পিনাকি সরকার (ইসলামপুর)
বিরাজ মুখোপাধ্যায় (ইসলামপুর)
প্রশান্ত বিশ্বাস (আলিপুরদুয়ার)
সূর্যশংকর মণ্ডল (দক্ষিণ দিনাজপুর)
শীর্ষেন্দু কুণ্ডু (দক্ষিণ দিনাজপুর)
প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (শিলিগুড়ি)
পার্থসারথী মণ্ডল (শিলিগুড়ি)
অনির্বাণ বসু (ডায়মন্ড হারবার)
অশোকতরু মুখোপাধ্যায় (বারুইপুর)
অর্ধেন্দুশেখর দে সরকার (বারুইপুর)
অনুপম চক্রবর্তী (বারাসত)
সুজিতকুমার পতি (বারাসত)
অভিজিৎ দাস (বারাসত)
রক্তিম চট্টোপাধ্যায় (বসিরহাট)
রাকেশচন্দ্র সাধুখাঁ (বনগাঁ)
দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য (বারাকপুর)
বিশ্বজিৎ মণ্ডল (বারাকপুর)
তন্ময় ভট্টাচার্য (বারাকপুর)
কৌশিক বন্দ্য়োপাধ্যায় (বারাকপুর)
সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায় (বিধাননগর)
কল্লোল ঘোষ (বিধাননগর)
শংকর নারায়ণ সাহা (বিধাননগর)
বিজয়কুমার ঘোষ (বিধাননগর)
জোনাকি বাগচি (বিধাননগর)
সঞ্জয় কুণ্ডু (বিধাননগর)
পার্থপ্রতীম রায় (কৃষ্ণনগর)
মানস চৌধুরী (কৃষ্ণনগর)
প্রশান্ত কীর্তনীয়া (কৃষ্ণনগর)
সমিত মণ্ডল (কৃষ্ণনগর)
শুভ্রজিৎ মজুমদার (রানাঘাট)
অরিন্দম মুখোপাধ্যায় (রানাঘাট)
সৌমিত্র ঘোষ (রানাঘাট)
রবীন্দ্রনাথ দোলুই (রানাঘাট)
অমিতকুমার সিনহা মহাপাত্র (আসানসোল-দুর্গাপুর)
দীপঙ্কর দাস (পশ্চিম মেদিনীপুর)
পার্থসারথী পাল (পশ্চিম মেদিনীপুর)
প্রসেনজিৎ দত্ত (পূর্ব মেদিনীপুর)
রবীন্দ্রনাথ রায় (পূর্ব মেদিনীপুর)
সুমন বোগী (পূর্ব মেদিনীপুর)
বৈদ্যনাথ দাস (পূর্ব মেদিনীপুর)
সন্দীপকুমার পাল (পূর্ব মেদিনীপুর)
ফারুক রহমান (পুরুলিয়া)
মহম্মদ আবদুর রোব খান (পুরুলিয়া)
প্রসেনজিৎ ঘোষ (বীরভূম)
শিবু ঘোষ (বীরভূম)
উৎপল সাহা (জলপাইগুড়ি)
সুমন দাস (মালদহ)
অভিজিৎ দত্ত (মালদহ)
অনুপ ঘোষ (মালদহ)
দেবাশিস পাণ্ডা (বাঁকুড়া)
রাকেশ সিং (হুগলি গ্রামীণ)
সঞ্জয় শ্রীবাস্তব (চন্দননগর)
সুদীপ্ত চক্রবর্তী (চন্দননগর)
অমিতাভ সান্য়াল (চন্দননগর)
শান্তনু বসু (হাওড়া)
বিশ্বজিৎ ঘোষ (হাওড়া)
অনির্বাণ হালদার (হাওড়া)
মহেশ দাস (হাওড়া)
সৈয়দ আহসান কবীর (হাওড়া গ্রামীণ)
সঞ্জয় কুমার দে (হাওড়া গ্রামীণ)
ধীমান বৈরাগী (হাওড়া গ্রামীণ)
অভিজিৎ বসু মল্লিক (ঝাড়গ্রাম)
মহম্মদ মহিবুল ইসলাম (মুর্শিদাবাদ)
সুদীপ সিং (মুর্শিদাবাদ)
মৃণাল সিনহা (মুর্শিদাবাদ)
সমিত তালুকদার (মুর্শিদাবাদ)
অমলেন্দু বিশ্বাস (পূর্ব বর্ধমান)
শেখ শিহাবউদ্দিন (পূর্ব বর্ধমান)
অমরজিৎ বিশ্বাস (পূর্ব বর্ধমান)

কোন কোন এসআইকে ভোটের কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, রইল সেই তালিকা:

বারুইপুর পুলিশ ডিভিশনের ত্রিদিবকুমার মল্লিক, প্রদীপকুমার রায়। সুন্দরবন পুলিশ ডিভিশনের ত্রিদিব সাহা, বিভাস সরকার, ও শেখ জাহাঙ্গির আলি। বারাসত পুলিশ ডিভিশনের চিন্তামণি নস্কর, অরিন্দম হালদার, প্রতাপ মোদক। বনগাঁ পুলিশ ডিভিশনের গণেশ বাইন, অসীম পাল। তালিকায় রয়েছেন কৃষ্ণনগর পুলিশ ডিভিশনের তিন এসআই। তাঁরা হলেন, নির্মাল্য দত্ত, দেবজ্যোতি পাঠক, দীপঙ্কর মণ্ডল। রানাঘাট পুলিশ ডিভিশনের রাজশেখর পাল, শুভাশিস বিশ্বাস। হাওড়া (গ্রামীণ) পুলিশের কৃষ্ণেন্দু প্রামাণিক, মুর্শিদাবাদ পুলিশ ডিভিশনের কওসর হোসেন মণ্ডল এবং বারাকপুরের উত্তমকুমার সরকার।

উপরোক্ত মোট ১০০ জন পুলিশ আধিকারিককে শুক্রবার দুপুর তিনটের মধ্যে দায়িত্বগ্রহণ করে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন