সময়ের চাকা ঘুরে ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ২০২৬ সাল। আজ পয়লা বৈশাখ। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের শ্রেষ্ঠ উৎসব। তবে উৎসবের মেজাজ এক থাকলেও, যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে গেছে পালনের ধরন। ফিরে তাকালে দেখা যায়, বিশ শতকের শেষার্ধ বা একুশ শতকের শুরুর সেই সাবেকিয়ানা আর আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগের বৈশাখের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ।

আরও পড়ুনঃ ক্ষোভে ফুঁসছিলেন স্থানীয়রা; বিক্ষোভের মুখে তৃণমূল প্রার্থী
সেকালের বৈশাখ: হালখাতা আর আন্তরিকতার আমেজ
আগেকার দিনে পহেলা বৈশাখ মানেই ছিল সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে নতুন জামা পরে গুরুজনদের প্রণাম করা। পাড়ার মোড়ে মোড়ে তখন চলত প্রভাতফেরি। শান্তিনিকেতনী ঘরানায় গান-কবিতায় বরণ করে নেওয়া হতো নতুন বছরকে। ব্যবসায়ীদের কাছে দিনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাল সালুর মোড়কে লক্ষ্মী-গণেশের আরাধনা করে শুরু হতো নতুন ‘হালখাতা’। খদ্দেরদের নিমন্ত্রণ করে মিষ্টির প্যাকেট আর ক্যালেন্ডার উপহার দেওয়া ছিল এক অবিচ্ছেদ্য প্রথা। সেই মিষ্টির প্যাকেটে থাকতো খাঁটি নলেন গুড়ের সন্দেশ আর নিমকি।

বৈশাখের আগের মাস জুড়ে চলত ‘চৈত্র সেল’। আর পয়লা বৈশাখে গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্র বসত মেলা। নাগরদোলা, মাটির পুতুল আর জিলিপির গন্ধে ম ম করত মেলার মাঠ।
আরও পড়ুনঃ আজই CBSE দশম শ্রেণির ফলপ্রকাশ; এখানেই দেখে নিন
২০২৬–এর বৈশাখ: ঐতিহ্যের সাথে প্রযুক্তির কোলাজ
২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে চিত্রটা অনেকটাই আধুনিক। এখন আর নিমন্ত্রণ পত্রের বদলে হোয়াটসঅ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ডিজিটাল কার্ড’ পাঠাতেই মানুষ বেশি অভ্যস্ত। তবুও বাঙালির আবেগে খুব একটা ভাটা পড়েনি।এখন খাতার বদলে এসেছে ক্লাউড-ভিত্তিক সফটওয়্যার। ব্যবসায়ীরা এখন কিউ-আর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করছেন।

কেনাকাটার ধরণ বদলেছে। চৈত্র সেলের ভিড় এখন অনেকটাই স্থানান্তরিত হয়েছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে। বর্তমানে পহেলা বৈশাখে ঠাকুরমার ঝুলি থেকে বেরোনো হারানো রেসিপি যেমন কদর পায়, তেমনই রেস্তোরাঁগুলোতে ফিউশন খাবারের রমরমা। এখন মানুষ সশরীরে উপস্থিত হওয়ার পাশাপাশি ভিডিও কলে প্রবাসী পরিজনদের সাথে উৎসবে সামিল হয়।

পাড়ার সেই জলসা আজ হয়তো কম দেখা যায়, কিন্তু তার জায়গা করে নিয়েছে বর্ণাঢ্য মেগা ইভেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়া লাইভ। তবে মঙ্গল শোভাযাত্রার আবেদন আজও অমলিন, যা বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে বহন করে চলেছে।



