২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটারদের নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। ভোটের দিন বুথ চত্বরে ভিড় এড়াতে এবং জাল ভোটার রুখতে এবার ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ বা দ্বিস্তরীয় যাচাইকরণ পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক।
১৮ এপ্রিল তারিখের এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, প্রথম দফার ভোটের জন্য ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ শুরু হচ্ছে ২১ এপ্রিল সন্ধে ৬টা থেকে। আর তার আগেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তাদের একগুচ্ছ নির্দেশ পাঠিয়েছে কমিশন। দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে ‘সাইলেন্স পিরিয়ড’ জারি থাকবে ২৭ এপ্রিল সন্ধে ৬টা থেকে।
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ‘নজিরবিহীন’ বৈঠক; যুদ্ধের মেজাজে আধাসেনা
বুথে ঢোকার নতুন নিয়ম কী?
এবার কোনও ভোটারকে বুথে ঢুকতে গেলে দুটি ধাপ পার করতে হবে:
১) প্রথম ধাপ: বুথের প্রবেশপথে মোতায়েন থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ভোটারদের পরিচয়পত্রের আসল নথি খতিয়ে দেখবেন।
২) দ্বিতীয় ধাপ: গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকার পর ‘ভোটার অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ’-এ উপস্থিত থাকবেন বিএলও। সংশ্লিষ্ট ভোটার ওই এলাকারই কি না এবং তাঁর পরিচয়পত্রের সত্যতা বিএলও-ই চূড়ান্তভাবে যাচাই করবেন। বিএলও সবুজ সংকেত দিলেই কেবল ভোটার ভোটকক্ষে প্রবেশের অনুমতি পাবেন।
১০০ মিটারের মধ্যে কড়া পাহারা
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন বুথের ১০০ মিটার এলাকার মধ্যে ১৬৩ বিএনএসএস (পুরানো ১৪৪ ধারা) অত্যন্ত কড়াকড়িভাবে বলবৎ করতে হবে। এই এলাকার মধ্যে কোনও অবৈধ জমায়েত বা ভিড় করা যাবে না। এমনকি বুথ সংলগ্ন সরু গলিগুলোতেও নজরদারি চালাবে পুলিশ ও আধাসেনা।
ভুয়ো ভোটার বা বহিরাগতদের প্রবেশ রুখতে প্রতিটি বুথ চত্বরে স্পষ্ট চিহ্নিতকরণ বা ‘ভিজিবল মার্কিং’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘সব বাংলাদেশি মুসলিমকে লাথি মেরে তাড়াব’, মন্তব্য মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার
গাফিলতি হলেই কড়া শাস্তি
কমিশন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দিন কোনও আধিকারিকের পক্ষ থেকে যদি কোনওরকম পক্ষপাতিত্ব বা কর্তব্যে গাফিলতি দেখা যায়, তবে আইনের কঠোরতম ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্টর অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে এই ভেরিফিকেশন প্রোটোকল প্রতিটি বুথে নিখুঁতভাবে মানা হয়।
রাজ্যের ডিআইজি থেকে শুরু করে সমস্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার বার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বুথ দখল বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে কমিশন যে এবার এক চুলও জমি ছাড়তে নারাজ, তা এই নির্দেশিকা থেকেই পরিষ্কার।



