গণনা শেষ হয়নি। তবে জয়ের আশ্বাস বোধহয় পেয়ে গিয়েছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। জায়গায়-জায়গা এখনই আবির মজুত করে রাখা হয়েছে। এমনকী, দিল্লির সদর দফতরেও উচ্ছ্বাস বিজেপি কর্মী সমর্থকদের। এর মধ্যেই বাঁকুড়ার কোতুলপুরের খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের পার্টি অফিস দখল করল বিজেপির। পার্টি অফিসের মাথায় উঠে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, কোতুলপুর বিধানসভা কেন্দ্রের খিরি গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় দখল করল বিজেপি। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের দেওয়ালে থাকা লেখা মুছে সেই কার্যালয়ের ওপর বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দিলেন বিজেপির কর্মী সমর্থকেরা। পাশাপাশি গেরুয়া আবির খেলায় মেতে উঠেছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে বামেরা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে পার্টি অফিস দখলের ছবি প্রায় সকলের দেখা। জেলায়-জেলায় এমন প্রচুর পার্টি অফিস সিপিএম-এর দখলের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বছর ফেরের পর দেখা গেল সেই একই ছবি। কিন্তু পালা বদলে গেল। এখনও বিজেপি জেতেনি। তবে, তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করা শুরু করেছে তাঁরা।
অপরদিকে, বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দূর্লভপুরে একের পর এক তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় এবং তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি র কার্যালয়ে ভাঙচুর চালালো বিজেপি। একের পর এক দলীয় কার্যালয় ভেঙে দলীয় কার্যালয়ের সামনে টাঙানো তৃণমূলের পতাকা খুলে টাঙিয়ে দেওয়া হল বিজেপির পতাকা। ঘটনার খবর পেয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও গঙ্গাজলঘাটি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত বিজেপি কর্মীদের হঠিয়ে দেয়।
আরও পড়ুনঃ ‘ফাইল নষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে’, উঠল অভিযোগ; নবান্ন ‘দখল’ নিল কেন্দ্রীয় বাহিনী!
বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার মাঝে উত্তেজনা এবার ছড়িয়ে পড়েছে পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়ায়। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় পার্টি অফিসে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বিকেলের দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। আগুন লাগানোর সময় অফিসে কয়েকজন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
তাঁরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসায় বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটেনি, তবে অফিসের বড় অংশ পুড়ে গেছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গণনার প্রাথমিক ট্রেন্ডে বিজেপির ব্যাপক এগিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকশো লোক তৃণমূল অফিসের সামনে জড়ো হন। উল্লাসের মধ্যে কিছু উত্তেজিত জনতা অফিস লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেন।
আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও অফিসের ভেতরের আসবাব, নথিপত্র ও পার্টির প্রচার সামগ্রী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।জামুড়িয়ার এই ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক নির্বাচনী ছবির সঙ্গে যুক্ত। গণনার সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বিজেপি ইতিমধ্যে ১৯৪টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছে, অন্যদিকে তৃণমূল পিছিয়ে পড়েছে অনেক কেন্দ্রে।
আরও পড়ুনঃ বাংলায় হীরক তৃণমূল সাম্রাজ্যের পতন, মমতা-অভিষেকের বাড়ি পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন জেলায় তৃণমূল একেবারে শূন্যের কোঠায়, যা দলীয় কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে। এই আবহে জামুড়িয়ার মতো ঘটনা রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতারা এই ঘটনাকে “পূর্বপরিকল্পিত আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছেন। এক নেতা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “ফলাফল এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অথচ আমাদের অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এটা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জাজনক। প্রশাসন নীরব দর্শক হয়ে থাকলে আমরা সাধারণ কর্মীদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করব?” অন্যদিকে বিজেপির জেলা নেতারা এই ঘটনার নিন্দা করে বলেছেন, দলীয়ভাবে কোনও হিংসার সমর্থন নেই। তাঁরা দাবি করেছেন, কিছু উত্তেজিত মানুষের আবেগের বশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু দল এর নিন্দা করে।জামুড়িয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন চাপা ভয়।


