তৃণমূলের নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি, তার আগেই দলের অন্দরে দাউদাউ করে জ্বলতে শুরু করল বিদ্রোহের আগুন। হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে এবার সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুলতে শুরু করলেন দলেরই একাংশ। কর্পোরেট সংস্কৃতি বনাম প্রবীণ নেতৃত্ব, এই চিরন্তন লড়াই এবার প্রকাশ্য রাজপথে চলে আসায় কার্যত অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
আরও পড়ুনঃ শপথের দিনেই কি বড় কোনো চমক দিতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী?
অরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠ নেতা কোহিনূর মজুমদার হারের দায় সরাসরি চাপিয়েছেন অভিষেকের কাঁধে। তাঁর দাবি, প্রবীণদের অসম্মান এবং অযোগ্যদের নেতা করার ‘কর্পোরেট কালচার’-ই ডুবিয়েছে দলকে। পিছিয়ে নেই মালদহের প্রবীণ নেতা কৃষ্ণেন্দু চৌধুরীও। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, ‘অভিষেক দলটাকে তিলে তিলে শেষ করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জানতেন, কিন্তু তাঁকে ধৃতরাষ্ট্রের মতো সব সহ্য করতে হয়েছে।’ অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে দলের বিপর্যয়ের জন্য গৌতম দেবকে দায়ী করেছেন পাপিয়া ঘোষ।
শুভেন্দুর কাছে ক্ষমা চাইলেন ঋজু!
সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন তৃণমূলের পরিচিত মুখ ঋজু দত্ত। এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, হারের পর নিজের দলের নেতাদের পাশে পাননি তিনি, বরং বিজেপি নেতারাই তাঁর পরিবারকে সুরক্ষিত রেখেছেন। এমনকি দলের নির্দেশে শুভেন্দু অধিকারীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করার জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন ঋজু, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ প্রকাশিত মাধ্যমিকের রেজাল্ট, পাশের হার ৮৬.৮৩ শতাংশ
মমতার ‘শৃঙ্খলারক্ষা’ দাওয়াই
পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাচ্ছে দেখে বুধবার কালীঘাটের বৈঠক থেকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিষেকের সমালোচনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দলের অন্দরের এই বিদ্রোহ দমন করতে তড়িঘড়ি একটি ‘শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি’ গড়ে দিয়েছেন তিনি। এই কমিটিতে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শুভাশিস চক্রবর্তী এবং অসীমা পাত্র। তৃণমূলের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, বিক্ষুব্ধ নেতাদের বক্তব্য তাঁদের ব্যক্তিগত মত, দলের সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের ফলের পর তৃণমূলের অন্দরে যে ভাঙন শুরু হয়েছে, তা এই কমিটির মাধ্যমে রোখা কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।


