পঁচিশে বৈশাখ তথা কবিগুরুর জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নে বাংলার প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে শপথ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। এই মেগা ইভেন্টকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই তিলোত্তমার প্রাণকেন্দ্রে চলছে মহাপ্রস্তুতি। বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে শপথমঞ্চ সাজানো হচ্ছে বিশালাকার দুর্গামূর্তি এবং মনীষীদের প্রতিকৃতি দিয়ে। এমনকি আগত অতিথিদের জন্য থাকছে ঝালমুড়ি ও রসগোল্লার মতো খাঁটি বাঙালি ভূরিভোজের ব্যবস্থা।
আরও পড়ুনঃ শহরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী, শনি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মালবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ!
বৃষ্টির চোখরাঙানি ও বিকল্প ভেন্যু
তবে এই উৎসবের মেজাজে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার সকালে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টিতে ভিজেছে ব্রিগেড, মাঠের বিভিন্ন জায়গায় জল ও কাদা জমে রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আয়োজকরা ‘প্ল্যান বি’ হিসেবে নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামের কথা মাথায় রাখছেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বরুণদেবের সঙ্গে ‘বোঝাপড়া’ হয়ে যাবে এবং অনুষ্ঠান মাঠেই হবে।
রাইটার্স বিল্ডিংয়ে ফেরা
এবারের শপথগ্রহণের পর এক বিশেষ প্রতীকী পদক্ষেপ নিতে চলেছে নতুন সরকার। শপথ নিয়ে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী সোজা যাবেন রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। গত এক দশকে রাইটার্সের যে জৌলুস হারিয়েছিল, তাকে ফিরিয়ে আনাই নতুন সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ও কুকুর অপসারণ বিতর্ক
শপথের আগে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে ব্রিগেড। এদিন খোদ পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন। এর মাঝেই বিকেল নাগাদ কলকাতা পুরসভার দুটি কুকুর ধরার ভ্যান মাঠে আসে। উল্লেখ্য, সেই গাড়িগুলোতে এখনও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত স্লোগান জ্বলজ্বল করছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রচ্ছন্ন হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
আরও পড়ুনঃ সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বড় পরিকল্পনা TRAI-র; দেশজুড়ে ফ্রী WIFI
মঞ্চের বিন্যাস
মূল মঞ্চকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং ২০টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। রাজ্যপাল আর.এন. রবি নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
তবে সবার নজর এখন একটিই প্রশ্নের দিকে কে হচ্ছেন সেই ‘ভূমিপুত্র’ মুখ্যমন্ত্রী? শুক্রবারের বৈঠকেই সেই নাম চূড়ান্ত করে সিলমোহর দেওয়ার কথা শাহের। একদিকে রবীন্দ্রসংগীত, অন্যদিকে ঝালমুড়ি আর সীতাভোগের স্বাদ— সব মিলিয়ে এক নতুন ধরণের শপথ গ্রহণ দেখার অপেক্ষায় রয়েছে তিলোত্তমা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাঙালির আবেগকে মিশিয়ে দিয়েই নতুন এই শাসন অধ্যায় শুরু করতে চাইছে গেরুয়া শিবির।


