চন্দন দাস, কলকাতাঃ
‘প্রসঙ্গ : স্ট্রং রুম থেকে রাষ্ট্রপতি শাসন’
কিছু বুঝলেন, উদ্দেশ্য আসলে কি?
স্ট্রং রুমে সশরীরে হাজির হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করেছেন।
আসলে ওটা এক বিচিত্র চক্রান্ত।
নির্বাচন বাতিলের ‘মাস্টারপ্ল্যান‘।
ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, স্ট্রং রুমে গিয়ে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকাটা এক সুপরিকল্পিত চাল।
লক্ষ্য একটাই— যেভাবেই হোক চলতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়া। কেন এই মরিয়া চেষ্টা? কারণ, যে ‘সিম্প্যাথি ভোট’ বা সহানুভূতির ঢেউ তোলার পরিকল্পনা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা করেছিলন, তাও আপাতত মাঝগঙ্গায় ডুবে গেছে।
আরও পড়ুনঃ ঘুম ছুটেছে তৃণমূলের! বুথের লড়াই আদালতের অলিন্দে
‘ভিক্টিম কার্ড’ খেলার সব তাসই একে একে ফেল করছে! যতো এ চেষ্টা করছে মানুষের সহানুভূতি আদায়ের, ততই মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে!
প্রেসিডেন্ট রুল নিয়ে পলিটিক্যাল ড্রামা
গুঞ্জন উঠছে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখন চাইছেন গোটা ভোট প্রক্রিয়াটা রাষ্ট্রপতির শাসনাধীনে নতুন করে শুরু হোক। যদি সেটাই হয়, তবে আবারও সেই পুরনো ‘আমি অসহায় ’ সেজে মানুষের আবেগকে উসকে দেওয়া যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, সাধারণ মানুষ কি একই নাটক বারবার দেখবে? এবার আর সেটা হচ্ছে না!
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বনাম রাজনৈতিক সার্কাস
নির্বাচন কমিশনের (ECI) আশ্বাস, স্ট্রং রুম কোনো শপিং মল নয় যে চাইলেই ভিতরে ঢোকা যাবে! কারণগুলো ব্যখ্যা করতে গিয়ে কমিশন বলছে
১| ত্রিস্তরীয় সুরক্ষা: স্ট্রং রুম কড়া পাহাড়ায় মোড়া এবং সিলগালা করা।
২| সিসিটিভি নজরদারি: কমিশনের তৃতীয় নয়ন সব সময় খোলা।
৩| ইভিএম-এর নিরাপত্তা: তিনি বড়জোর বাইরের স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন, কিন্তু ইভিএম (EVM) ছোঁয়া তাঁর সাধ্যের অতীত।
ফল কী হবে?
এই নাটকের শেষমেশ ফলাফল হবে ‘বিগ জিরো’। কোনো রকমের ফাঁক বের করা অসম্ভব!
ইমেজ যখন আইসিইউ-তে
একজন ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে এই ধরণের আচরণ কি শোভা পায়? নিজেই নিজের ভাবমূর্তি ধুলোয় মেশাতে যদি কেউ চায়
নিজের সম্মান যদি কেউ নিজে না রাখে
সেক্ষেত্রে দুনিয়ার কার সাধ্য যে তাকে সিংহাসনে বসিয়ে সম্মান দেয়?
অন্য কোনো রাস্তা?
যেভাবে তৃণমূল সাংসদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘জহ্লাদ‘ বলে কেন্দ্রকে খ্যাপাচ্ছেন
যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নামে একের পর এক ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ তুলছে
যেভাবে বহিরাগত শব্দটি প্রধানমন্ত্রী থেকে সকলের বিরুদ্ধে পাইকারি হারে ব্যবহৃত হচ্ছে
যেভাবে ভোট দিতে যাওয়া এক বৃদ্ধের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনা কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা হয়েছিল, ECI cctv ফুটেজ না দেখালে ওই কারণেও ভোট বাতিল করতে এরা দৌড়ত!
সোজাসুজি বুঝে নিন
দরকার হলে নিজের গায়ে নিজেই ছুরি মেরে দিল্লীকে দায়ী করবেন মুখ্যমন্ত্রী! বাংলার শিক্ষিত মানুষ নিশ্চিত কপিল সিব্বাল সহ ওই প্রাণীর পোষা উকিলদের নিয়ে এখন বিশাল আলোচনা আর ষড়যন্ত্র চলছে কেমন করে বানচাল করা যায় এই বৈধ নির্বাচন!
সত্যি কথা কি জানেন? Gracefully বা সম্মানের সঙ্গে, মর্যাদার সঙ্গে পরাজয় মেনে নেওয়ার মতো রুচিবোধ, শিক্ষা, নাগরিক বা রাজনৈতিক সৌজন্য- এসবের কোনোটাই এর নেই! এ আসলে এক আদিম ও জান্তব প্রাণী যার যেন তেন প্রকারেন ক্ষমতা আর দম্ভ ধরে রাখতে হবেই। ন্যায় অন্যায়, উঁচু নিচু, সম্মান অসম্মান, এসবের এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ধার ধারে না!
মিথ্যাচার আর অহংকার + বিপুল অবৈধ অর্থ = deadly combination! দরকার পড়লে নিজের গায়ে বোমা বেঁধে এ হয়তো কেন্দ্রকে হুমকি দেবে নির্বাচনের ফল প্রকাশ বন্ধ করতে!
এরকম একটা দৃশ্য দেখা গেলে অবাক হবেন না! কারণ
এই পরাজয় কাকে বলে তা জানে না
আসলে এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা কতদূর অসৎ হতে পারে তা ও নিজেও ভালো করে জানেন না!
ইনি করবেন রাজ্য শাসন?
চালাকির দ্বারা কোনো মহৎ কাজ হয় না!


